Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ভোগান্তি শেষ হবে কবে

কাঁচপুর মেঘনা গোমতি সেতুর দু’পাশেই ভয়াবহ যানজট

প্রকাশের সময় : ১ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নূরুল ইসলাম : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি যেন যাত্রীদের পিছু ছাড়ছে না। ঈদ এলেই দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বলে খ্যাত এই মহাসড়কে ৫০ থেকে ৭০-৭৫ কিলোমিটার যানজটের কবলে পড়েন যাত্রীরা। চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। ঈদের সেই ভোগান্তি এবার শুরু হয়েছে বহু আগে থেকেই। কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতি সেতুর দু’পাড়ের যানজটে নষ্ট হচ্ছে প্রায় তিন ঘণ্টা। গতকাল মঙ্গলবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। থেমে থেমে বৃষ্টি সেই ভোগান্তিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কাঁচপুর ও শিমরাইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র। কয়েকজন যাত্রী এজন্য পুলিশের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বলেন, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ ঠিকমতো ডিউটি করলে অবস্থা এতটা খারাপ হতো না। একজন যাত্রী বলেন, ঈদে যানজটের বিষয়টি সবার জানা। কিন্তু এখন ঈদের মতো যানজট অপ্রত্যাশিত। অপ্রস্তুত যে কোনো কিছুই মানুষকে বেশি পীড়া দেয়। জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তা সংস্কারের জন্য এক লাইনে যানবাহন চলাচল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতি সেতুর দু’পাশেই সকাল থেকেই ভয়াবহ যানজটে আটকা পড়েছে অনেক যানবাহন। তিনি বলেন, তিনটি সেতু এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সকাল থেকেই সতর্ক করা হয়েছে। তবে রাস্তা বন্ধ থাকলে তারা কী করবে? ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন প্রকল্পের পরিচালক আফতাব হোসেন খান বলেন, ফোরলেনের কাজের জন্যই একদিক বন্ধ রেখে একই পথে যানবাহন চলাচল করছে। এজন্য কিছুটা চাপ বেড়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, গতকাল মঙ্গলবার তিনটি স্থানে ফোরলেনের কাজের জন্য এক লাইন বন্ধ ছিল। সেগুলো হলো, কুসুমপুর, চান্দিনার কাছে সোয়াগাজী, এবং ফেনীর মিয়াবাজার। সেই হিসাবে ফোরলেনের কাজের প্রভাব তিনটি সেতুর দু’মাথায় পড়ার কথা নয়।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজের উভয় পাশে রাস্তার সংস্কার কাজ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই সৃষ্ট এ যানজটের কারণে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ট্রাক স্ট্যান্ডের সমানে অর্ধেক রাস্তা বন্ধ করে সংস্কার কাজ চলছে। এতে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামগামী যানবাহন চলছে অর্ধেক রাস্তা দিয়ে। ধীরগতিতে গাড়ী চলাচলের কারণে সেতুর পেছনে মৌচাক পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচপুর ব্রিজের ঢালে চট্টগ্রামমুখী রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে। উভয়দিকে যানবাহন চলাচলের ধীর গতির কারণে মুহূর্তেই আটকা পড়ছে শত শত যানবাহন। যানজটে আটকে পড়া যাত্রী শাহ আলম বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে জ্যামে পড়ে আছি। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো জ্যাম ছিল না। হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি হল কেন। যানজটের কারণে শিমরাইল মোড়ে বাস কাউন্টারগুলিতে সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যথাসময়ে বাস আসতে না পারায় যাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
এ ব্যাপারে শিমরাইল মোড়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোল্লা তাসলিম হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে কাঁচপুর ব্রিজের উভয় পাশের অর্ধেক রাস্তা বন্ধ করে সংস্কার কাজ চলছে। যার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় বন্ধ না করলে কখনও যানজটের সৃষ্টি হবে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথেও একইভাবে যানজট ছিল। বিশেষ করে মদনপুর থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। জানতে চাইলে ডিউটিরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, রাস্তার একদিক বন্ধ, বৃষ্টির কারনে যানবাহনের ধীরগতি, ঢাকা-সিলেট রুটের যানজট মিলে একেবারে ‘ডেডলক’ অবস্থা। রাত পৌনে ৮টার দিকে সবদিকই বন্ধ ছিল। এটাকে চালু করার প্রচেষ্টা চলছে। ট্রাফিক পুলিশের সব সদস্যই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে, মেঘনা ও গোমতি সেতুতে যানজটের কারণে হিসাবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের একজন প্রকৌশলী বলেন, দুটো সেতুতেই ভারী যানবাহনগুলো ধীরে চলাচল করে। বিশেষ করে গোমতি সেতুতে ভারী যানবাহন ওঠার সময় খুবই ধীরে চলে। এ সময় পেছনে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, তিনটি সেতুতেই যানবাহন ওঠানামা করার সময় পুলিশ ইচ্ছা করে যানবাহন আটকে রাখে। যানজটমুক্ত করার জন্য পুলিশের যে রকম তৎপরতা থাকা দরকার তা কখনও চোখে পড়ে না। গোমতি সেতুতে টোল আদায়ের সময়ও অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ক্ষেপণ হয়। এটাও যানজটের প্রভাবকে বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই ভোগান্তি শেষ হবে কবে? ফোরলেন প্রকল্পের পরিচালক আফতাব হোসেন খান গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, জুনের মধ্যেই ফোরলেনের কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছি। আশা করছি জুনেই সব ভোগান্তির ইতি ঘটবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ফোরলেনের কাজ শেষ হলে এবার ঈদেও মানুষ যানজটমুক্ত রাস্তা দিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ