Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

রাজধানীর উত্তরায় উবার চালক হত্যাকাণ্ড

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ২:১৪ এএম

রাজধানীর উত্তরায় উবার চালক আরমান (৪২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ছিনতাই নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে এখনও অন্ধকারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আরমানের পরিবারের দাবি সঙ্গে কারও কোনও শত্রæতা ছিল না তার। অপরাধীরা যাত্রী সেজে গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করতে পারে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কী কারণে, কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এই ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। সব বিষয় বিবেচনায় রেখে ঘটনার তদন্ত চলছে।
ডিএমপি’র উত্তরা জোনের এসি শচিন মৌলিক বলেন, ঘটনার কারণ জানতে আমরা বিভিন্ন ক্লু খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। হত্যাকারী কে বা কারা সেটি শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আরমানের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই ফারুক আহমেদ। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাড়ির ভেতরে ড্রাইভিং সিটে নিহতের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। তার বুকে ও পিঠে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, নিহতের গাড়ি স্টার্ট (চালু) অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার সিট বেল্ট বাঁধা ছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চলন্ত অবস্থায় গাড়িটি ১৬ নম্বর সড়ক দিয়ে এস ৫২ নম্বর বাড়ির পাশের দেয়ালে ধাক্কা খায়। ওই গাড়ির ভেতর থেকে তার দুটি মোবাইল, মানিব্যাগসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এদিকে, গাড়ির পেছনের দুটি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং সামনের দুটি দরজার লক খোলা ছিল।
তিনি আরও জানান, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৫, ১৬, ২০ নম্বর সড়কে বিভিন্ন ভবনে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কয়েকটিতে এই গাড়ির সামনের অংশ দেখা গেলেও পেছনের অংশ দেখা যায়নি। এছাড়া, এসব ক্যামেরার ফুটেজে হামলার কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে সবগুলো ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হবে।
উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর সোসাইটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের সেক্টরের এই রোডটিতে কোনও সড়ক বাতি জ্বলে না। সিটি করপোরেশনকে বললে, কর্মকর্তারা গায়ে মাখে না। ১৪ নম্বর সেক্টরে রাতে পুলিশ টহল কম দেয়। পুরো সেক্টরে যদি পুলিশ ঘন ঘন টহল দেয়, তবে অপরাধের সুযোগ থাকতো না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি শব্দ হয়। তখন তারা নিচে নেমে আসেন। তারা দেখতে পান একটি গাড়ি দেয়াল ঘেঁষে আছে। ভেতরে একজন লোক রক্তাক্ত। তার গলার অনেকটা অংশ কাটা ছিল। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
গত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার রাত ২টায় রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫২ নম্বর বাড়ির সামনে একটি গাড়ির (ঢাকা মেট্্েরা- গ-২৫-৪৫৪৫) ভেতর থেকে উবার চালক (স্মার্টফোনে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা) আরমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে রামপুরা থেকে যাত্রী নিয়ে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে গিয়েছিলেন তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ