Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ০৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

১০ বছরে ৫ কোটি ৮৮ লাখ কোটি টাকা পাঁচার হয়েছে -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ৫:৩১ পিএম | আপডেট : ৫:৫০ পিএম, ১৬ জুন, ২০১৯

গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন বা ৫ কোটি ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, যারা এই সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে তারাই এই কালো টাকা করেছে। দেশে বিনিয়োগ না করে তারা বিদেশে এই টাকা চালান করেছে। যে পরিমাণ টাকা গত এক দশকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে তা ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট বাজেটের চেয়েও অনেক বেশি। রোববার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

কারা অর্থ কারা পাঁচার করছে প্রশ্ন রেখে মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে আপনি কানাডা যান, মালয়েশিয়া যান, নিউইর্য়কে যান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান। আপনি দেখবেন যে, বড় বড় মল, বাড়ি, দোকান, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র সব আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থ পাঁচার করে সেখানে তারা গড়ে তুলছে, ব্যবসা করছে। তাদের নিজেদের জন্য একটা বিকল্প ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছেন তারা। কারণ তারা জানেন যেদিন এই সরকারের পতন হবে তাদের বাংলাদেশের মাটিতে থাকা খুব কঠিন হবে, তাদেরকে তখন নিজেদের স্বার্থে দেশ ত্যাগ করে চলে যেতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট হলো সরকারের সুবিধাভোগীদের জন্য এই বাজেট, এটা জনসাধারণের জন্য না। এই বাজেটের মাধ্যমে দরিদ্র আরো দরিদ্র হবে, ধনী আরো ধনী হবে।

তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার এই ব্যবস্থা গত ১০ বছর যাবত এই সরকার রেখেছে। কেনো? তাদেরই লোকজন, তাদেরই মদদটপুষ্ট লোকেরা, তাদেরই স্বার্থান্বেষী যেসব ব্যক্তিরা আছেন তারাই এই কালো টাকার মালিক। এই কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বা ব্যক্তিদের, যারা অনেক কালো টাকা করেছেন এবং ‘আন্ডার দ্য কার্পেট’ অর্থ উপার্জন করেছেন সেই অর্থকে সাদা করার আবার একটা সুযোগ দেয়া।

তিনি বলেন, দেশে একটা বিরোধীদল বিহীন রাজনীতি চলছে, এটা কোনো রাজনীতি না। বাংলাদেশে এখন কোনো রাজনীতি নাই। এই কথা অনিস্বীকার্য যে, আজকে এই কারণে একক কর্তৃত্ববাদের যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার ফলে দেশে একটি ভয়ংকর শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এই শূণ্যতা বেশিদিন থাকবে না। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুদিন আসছে, এই সুদিন এখন সময়ের ব্যাপার। এই সুদিন আসবে যেদিন গণতন্ত্র ফিরে আসবে, যেদিন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং আইনের শাসন ফিরে আসবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে এবং একটা সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্ট হবে- সেইদিনের অপেক্ষায় আমাদেরকে থাকতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের জন্যও সকলকে প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। তবে তার সত্যিকারের মুক্তি আসবে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথেই বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। সেজন্য আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে, আমাদেরকে কর্মসূচি দিতে হবে এবং আমাদেরকে এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে করে সরকার বাধ্য হয় তাকে মুক্তি দিতে।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যারিস্টার মওদুদ


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ