Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

এভাবে কোপা শুরু করতে চাননি মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৯, ৬:৩৮ পিএম

আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা মিশনের শুরুটা এর চেয়ে বাজে হতে পারত না। রোববার ভোরে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি যারা দেখেছেন তারা হয়ত টুর্নামেন্ট শেষে লিওনেল মেসির হাতে অধরা শিরোপা দেখার আশা ছেড়েই দিয়েছেন। আক্রমণে মেসি দু’একবার ঝলক দেখালেও সাদা ও আকাশি-নীল দলটির মিডফিল্ড ছিল যেন খা খা মরুভুমি।

আসরের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারায় কলম্বিয়া। গত এক যুগে এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান এই প্রতিপক্ষের কাছে হারল প্রতিযোগিতাটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে এটাকে ‘তিক্ত অনুভুতি’ আখ্যা দিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা এভাবে শুরু করতে চাইনি।’ একই সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও ঝরেছে পাঁচ বার ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর কণ্ঠে, ‘তবে আমাদের এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তাদের চেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে কেবল উরুগুয়ে। তবে ১৯৯৩ সালের পর থেকে কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাই জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। গত দুই আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় লা আলবেসিলেস্তেদের।
ব্রাজিলের সালভাদরে অনুষ্ঠেয় ম্যাচের প্রথমার্ধে ছিল এলোমেলো ফুটবলের প্রদর্শণী। মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার যেন কেউ ছিল না। মেসিকে অনেক সময় নিচে নেমে খেলতে দেখা যায়। বল নিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও সতীর্থদের কাছ থেকে বল ফিরে পাচ্ছিলেন না। এক কথায় আক্রমণভাগে মেসি-আগুয়েরো-ডি মারিয়াদের সমর্থন দিতে যে মিডফিল্ডোর প্রয়োজন তার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। রক্ষণের ভুলে এসময় পিছিয়েও পড়তে পারত লিওনেল সোলানির দল।
বিরতির পর ছন্দে ফেরার আভাস দেয় আর্ঝেন্টিনা। ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগও পেয়ে যান মেসি। নিকোলাস ওটামেন্ডির শট রুখে দেন গোলরক্ষক ডেভিড আসপিনা। ফিরতি আলগা বলে হেড নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মেসি। তবে সুযোগ হাতছাড়া করেনি কলম্বিয়া। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণে উঠে দুইবার জালের দেখা পেয়ে যায় কার্লোস কুয়েরেজের দল। রিয়াল মাদ্রিদ ও পর্তুগালের সাবেক কোচের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট। দুটি গোলর ধরণ দেখেই তা বোঝা যায়। নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা পাসে স্ট্রাইকারদের কাছে বল পৌঁছে দেওয়া এবং দু’একজনকে কাটিয়ে গোল আদায় করে নেওয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপে ঠিক একইভাবে ফ্রান্সের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে হামেস রড্রিগেজের কাছ থেকে লম্বা পাস পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে এক জনকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান বদলি নামা রজার মার্টিনেস। ৮৫তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থের ক্রসে প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন অধিনায়ক রাদামেল ফ্যালকাওয়ের বদলি নামা ডেভিড জাপাতা। সেরি আর লিগে ২৩ গোল করে আটলান্টাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় ভুমিকা ছিল এই স্ট্রাইকারের।
এর আগে ‘এ’ গ্রুপে ভেনিজুয়েলা ও পেরুর মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। পেরুর দুটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল হয়। শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভেনিজুয়েলার লুইস মাগো। একই গ্রুপে আগের দিন বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে আসর শুরু করে ব্রাজিল।
আগামী বৃহস্পতিবার সকালে নিজেদের পরবর্তি ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মেসি


আরও
আরও পড়ুন