Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

হংকং বিক্ষোভের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন ‘শিল্ড গার্ল’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৯, ৪:৫৪ পিএম

হংকংয়ে একটি বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বা বন্দী ফেরত পাঠানোর বিলের বিরুদ্ধে চলা প্রচণ্ড বিক্ষোভের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন ‘শিল্ড গার্ল’। অন্ধকার বাড়তে থাকে, তখন বিক্ষোভ সমাবেশে মানুষের সংখ্যা কমতে থাকে। কিন্তু একমাত্র এই তরুণী দাঙ্গা পুলিশের ঢালের সারির সামনে অটলভাবে বসে ধ্যান করতে থাকেন। এভাবেই রাতারাতি হংকং বিক্ষোভের একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন ল্যাম কা লো। তাকে নিয়ে আলোচনার স্রোত বয়ে চলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে। গণবিক্ষোভের মুখে হংকং সরকার ওই প্রত্যর্পণ বিল স্থগিত করেছে।

ল্যাম কা লো বলেন যে, বিলটির অনির্দিষ্টকালীন স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও তিনি তার লড়াই চালিয়ে যাবেন। কারণ তাদের দাবি বিলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বাতিল করা।

টুইটারে একজন পর্যবেক্ষক লিখেছেন, ‘নিষ্ঠুরতার মুখে সাহসিকতা। সুন্দর।’ হংকংয়ের আইরিশ সাংবাদিক আইরিন ম্যাক নিকোলাস লিখেছেন, ‘তারুণ্যের সরলতা এবং কর্তৃপক্ষের দাঙ্গা ঢাল।’ এমনকি চীনের ভিন্নমতাবলম্বী শীর্ষ শিল্পী বুদিউকাও- শিল্ড গার্ল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ছবি এঁকেছেন।

একজন প্রতিবাদকারী হংকং এর আইন পরিষদের বাইরে দাঙ্গা পুলিশের সামনে অবস্থান নেন।

ল্যাম্ব কা লো সেখানে পৌঁছান মঙ্গলবার রাতে, অর্থাৎ সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট আয়োজিত একটি সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে। ওই স্থানে তার সঙ্গে ছিল শত শত বিক্ষোভকারী, কিন্তু আরও বেশি সংখ্যক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পুরো সমাবেশ ঘেরাও করে রাখে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের লাইনের কাছাকাছি দাঁড়ানোর সাহস কারো ছিল না। তবে পুলিশকে ভয় পাননি মিস কা লো। তবে তিনি আশঙ্কায় ছিলেন যে অন্যান্য প্রতিবাদকারীরা আহত হতে পারে। এমন এক থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ওম মন্ত্র পড়ে ধ্যান করতে থাকেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র একটি ইতিবাচক আবেশ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যাপারে উদ্ধত হয়ে উঠছিল। সেই মুহূর্তে, আমি শুধু চেয়েছি প্রতিবাদকারীরা যেন আমার পাশে বসেন এবং কারও প্রতি যেন তারা উদ্ধত না হন।’ তবে কা লো কখনই এই আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হতে চাননি। ‘আমি কারও মনোযোগের কেন্দ্র হতে চাই না,’ কা লো বলেন। ‘কিন্তু যদি মানুষ আমাকে পুলিশের সামনে বসতে দেখে, আমি আশা করি সেটা তাদেরকে সাহসী হতে এবং নিজেদের প্রকাশ করতে সাহায্য করবে।’

হংকং-এ কয়েক দশকের মধ্যে সবচাইতে সহিংস প্রতিবাদের মুখে শনিবার বেইজিং সমর্থিত হংকং এর প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম বহিঃ-সমর্পণ আইন স্থগিত করতে বাধ্য হন। তবে কবে নাগাদ নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে, আইনটি সংস্কার করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, আইনটি রদ না করা পর্যন্ত তারা তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে।

ওই আইন মোতাবেক, বিচারের জন্য হংকং এর অপরাধীদের চীনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানোর বিধান করা হয়েছিল। একে কোন সফলতা হিসাবে দেখছেন না মিস কা লো। তিনি চান এই বিল যেন প্রত্যাহার করা হয়, বুধবারের সহিংসতাকে যেন দাঙ্গা হিসাবে শ্রেণীকরণ করা না হয় না, এবং যেসব বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের যেন মুক্ত দেয়া হয়। তিনি তার সহ-প্রতিবাদকারীদের প্রতি এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন