Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

কুড়িগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩জন আহত

ইউপি সদস্যকে অপহরণ, পুলিশি তৎপরতায় ২ ঘন্টা পর উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ জুন, ২০১৯, ৭:৪৩ পিএম

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল সন্ত্রাসীর হাতে গুরুত্বর আহত হয় ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাআলম, ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও মইনুল ইসলাম। এরপর সন্ত্রাসীরা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে অপহরণ করে। তাঁকে জিম্মি করে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ চাপ সৃষ্টি করলে অপহরণের ২ঘন্টা পর আবুল কালামকে আহত অবস্থায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে আবুল কালাম আজাদের পকেট থেকে ৬হাজার টাকা, মোটর সাইকেলের কাগজপত্র এবং ২টি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে চেকবই ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলী আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। এ সময় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষতার সাথে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। জনপ্রতিনিধিদের উপর সন্ত্রাসী হামলা বরদাশত করা হবে না।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান শাহআলম জানান, উপজেলা পরিষদে আইন শৃংখলা মিটিং শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সাথে ঘোগাদহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে এডিপি’র ২টি প্রকল্পের কাজের বিল নিয়ে কথা হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোগাদহ ইউপি’র ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতি আবুল কালাম আজাদের উপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে গত উপজেলা নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ না করায়। এক পর্যায়ে আমার সাথেও বসচা হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু আমাকে দেখে নেয়ার হুমকী দেয় এবং উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেড়িয়ে যেতে বলে। দোতালা থেকে নীচে নামার সাথে সাথেই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রথমে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় আনোয়ার, মুকুল, বিদ্যুৎসহ ১৫/২০জন সন্ত্রাসী। এরপর আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। এক পর্যায়ে মাটিতে ফেলে মাথা, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নোংরা ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় আমাকে বাঁচাতে এলে চাচাত ভাই মইনুল ইসলাম বাবলুকেও গুরুত্বর আহত করে। পুলিশ আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং ৪/৫জন সন্ত্রাসীকে আটক করে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু নিজে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয়।

আহত ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, আইন শৃংখলা মিটিং শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু’র সাথে কথা বলার পর নীচে নেমে আসলে আমাকে ১৫/২০জন সন্ত্রাসী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আটক করে এলোপাথারীভাবে মারধোর করে। এক সময় তারা আমাকে জোর করে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে গুম করার হুকমী দেয়। এসময় তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে আমাকে ত্রিমোহনী এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি গোডাউনে আটকে রাখে। সেখানে ১৫/২০ মিনিট রাখার পর আমাকে আবার মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে একটি অপরিচিত ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা আমার পকেটে রক্ষিত ৬ হাজার টাকা, মোটর সাইকেলের কাগজপত্র এবং চেকের পাতা ছিনিয়ে নেয়। পরে হুমকী ধামকী দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক শাখার দুটি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর নেয়। এরপরও কাইউম মেম্বারের মোবাইলে ফোন করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। পরে আমাকে টগরাইহাটে নিয়ে যায়। সেখানে কারো সাথে কথা বলে আমিনুল ইসলাম নামে এক ইউপি মেম্বারের জিম্মায় আমাকে ছেড়ে দেয়। তিনি আমাকে ধরলা ব্রীজের পূর্বপাড়ে এক হোটেলে নামিয়ে দিলে পুলিশ আমাকে ট্রাক করে সেখান থেকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়।

বিষয়টি নিয়ে বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিং শেষ করেই যখন জনপ্রতিনিধিরা সন্ত্রসীদের হামলার শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষেরও নিরাপত্তা বলে কিছু থাকে না। প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে এটি আমাদের প্রত্যাশা।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরে এরকম একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসআই নাজমুল হাসান সজিব জানান, উপজেলা পরিষদের পিছনে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ মারামারির ঘটনা চোখে পরে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আবুল কালাম আজাদ মেম্বারকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। তা জানতে পেরে পুলিশি তৎপরতায় প্রায় দু’ঘন্টা পর তাকে ধরলা ব্রীজের পূর্ব প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাজু সরকার জানান, তিনি জেলার বাইরে থাকায় বিস্তারিত কিছু না জানলেও ঘটনা শুনেছেন। একই দলের দুটি পক্ষের মধ্যকার এ বিরোধ। তবে এখন পর্যন্ত কেউই লিখিত অভিযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু’র সাথে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডল বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক বর্বরোচিত ঘটনা। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত এবং পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আহত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ