Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

তালপাখা তৈরিতে ব্যস্ত কুষ্টিয়ার নারী শ্রমিক

উপকরণ ও পুঁজি সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রসারতা

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

বৈদ্যুতিক ফ্যানের বিকল্প হিসেবে তাল পাখার বিকল্প নেই। তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের কারেণে কুষ্টিয়ায় বেড়েছে তাল পাখার চাহিদা। কুমারখালীর পাখাপল্লীর ৫শ’ পরিবারসহ জেলার হাজার পরিবার ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পাখা তৈরিতে। তৈরি করছে বিভিন্ন ধরনের তাল পাখা। কিন্তু অর্থ সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

বর্ষার তীব্র তাপদাহে একটু শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়াতে চায় সকলেই। স্বস্তি পেতে বিদ্যুৎ ফ্যানের বিকল্প হিসাবে তাল পাখা ব্যবহার করে। বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং ও প্রচন্ড গরমের কারণে তাল পাখার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। চাহিদার কারণে গরমের শুরু থেকেই পাখার জোগান বাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কুষ্টিয়ার পাখা পল্লীর কারিগররা। এখন কুষ্টিয়া কুমারখালীর পাখা পল্লীর শ্রমিকরা পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

চলমান তীব্র গরমে হাতপাখার যোগান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়ার খোকসা-কুমারখালীর তিন গ্রামের সহস্রাধিক নারী শ্রমিক। তাল গাছ থেকে পাতা কেটে শুকানো ও পাখা তৈরি করতে প্রায় ৫ শ’ শিশু ও নারী শ্রমিকের এখন আর চোখে ঘুম নেই। খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা পাড়ের গ্রাম গোপগ্রাম, মট মালিয়াট ও সন্তোষপুরের প্রায় সহস্রাধিক পরিবার বিগত কয়েক দশক ধরে তাল পাতা দিয়ে বাহারি হাত পাখা তৈরি ও বাজারজাত করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। বসন্ত মৌসুমের শুরু থেকে শীতের আগ পর্যন্ত সারাদেশে তাল পাতার তৈরি হাত পাখার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তবে লোডশেডিং ও তাপদাহের কারণে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে হাত পাখার চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুন হারে। বর্তমানে দু’উপজেলার তিনটি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক নারী শ্রমিক পাখা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নাওয়া খাওয়া ভুলে তারা দিন-রাত কাজ করে চলেছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মট মালিয়াট গ্রামের ৫০০ শ’ পরিবারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজার পরিবার এ পাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবারই পাখা তৈরির কারণে ওই গ্রামকে পাখা পল্লী বলেই সকলেই চেনে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখেছে। পাখা তৈরি ও বিক্রি করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে তাদের এ ব্যবসা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সকলের দাবি তাদেরকে সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করলে এ ব্যবসাকে আরো প্রসার করতে পারবে।

পাখা তৈরির কাজে কেউবা পাখায় রঙ, কেউবা বাঁশের তৈরি হাতল ও খিল তৈরি করছে। পাতার সাথে খিল বেঁধে তা সুতায় গাথা হয়। পরে হাতলের সাথে তার দিয়ে আটকে রঙ করা হয়। প্রতিদিন ২/৩ শ’ পাখায় রঙ করতে পারে।
এ সম্ভাবনাময় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক নারী প্রশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি এখন রীতিরকম আত্মনির্ভরশীল। মাত্র একদশকের ব্যবধানে বেশ বদলে গেছে এই তিন গ্রামের নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার চালচিত্র। আর এ পরিবর্তন একটি অভাবী দরিদ্র জনপদ থেকে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জনপদে পরিণত করেছে।

এ পাখা দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। একটি পাখা তৈরির কাঁচামাল, শ্রমিক ও বাজারজাত করতে সর্বমোট ৪/৫ টাকা খরচ হয়। বিগত কয়েক বছর হাতপাখার ব্যাপক চাহিদায় প্রতি পিস পাখা পাইকারী ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করেছে।
পাখা শ্রমিকরা জানান, অধিক পুজি থাকলে শীতের সময় তারা পাখা তৈরি করে মজুদ করতে পারলে ব্যবসা আরো ভাল হত। কুটির শিল্পের সাথে জড়িত এ সকল নারী শ্রমিকদের দাবি, সারা বছর লাভজনক এ ব্যবসার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও পুঁজি সঙ্কট দূর করতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন