Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

ঋণনির্ভর বাজেটে জাতির কল্যাণ সম্ভব নয়

বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সুদভিত্তিক ও ঋণনির্ভর হিসেবে উল্লেখ করে তা’ দ্বারা দেশ জাতির কল্যাণ সম্ভব হবে না বলে বিভিন্ন ইসলামী দল উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নতুনভাবে ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বাজেটে বরাবরের মত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখায় দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই এক বিবৃতিতে বলেন, বিশাল অংকের বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী গৌরববোধ করলেও সাধারণ জনগণ এর কতভাগ সুফল পাবে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

পীর সাহেব বলেন, বিগত সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে পরোক্ষ করের পরিমাণ ও মাত্রা বাড়িয়ে এবং বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁদে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বাজেটের বিশাল অংশ সরকারদলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন পীর সাহেব চরমোনাই।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশবান্ধব বাজেটের পরিবর্তে দলবান্ধব বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেটে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আমীর ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী ও সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাওলানা এনামুল হক আজাদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন এই বাজেট সরকারের একটি গতানুগতিক, উচ্চাভিলাসী এবং কিছু মানুষকে অবৈধ পথে অর্থ আয় এর ব্যবস্থা করে দেবে। প্রস্তাবিত বাজেট সুদভিত্তিক যা মানুষ মারার ফাঁদ। সাধারণ মানুষ এ বাজেট দ্বারা শুধুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মোবাইল ফোনের কল রেট বাড়িয়ে মূলত এদেশের নিম্নআয়ের মানুষ এমনকি ভিক্ষুক, শ্রমিক তথা গরীব মানুষের কাছ থেকে গোপন ভাবে রক্ত চুষে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বাজেট এর মাধ্যমে ধনী আরও ধনী হবে গরীব আরো গরীব হবে। সরকার সুদভিত্তিক বিশাল একটি মাথা ভারী বাজেট দিয়ে এদেশের শোষক শ্রেণী বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটকারীদের লুটপাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই বাজেটে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। বাজেটে গরীব এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়ন এর কোন ব্যবস্থা নেই।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একমাত্র যাকাত ভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি এবং আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমেই এই দেশের সকল মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হতে পারে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশে নৈতিক অবক্ষয়ের যে চরম অবনতি ঘটেছে তা রোধ করার জন্য ধর্মীয় বিধি-বিধান সর্বস্তরে বাস্তবায়নের বিষয়টি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল।
জাকের পার্টির সমর্থন

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশীয় পণ্য উৎপাদনে এ বাজেট অধিকতর উৎসাহ যোগাবে। তবে বাজেটের গুণগত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাংক খাতে যে সমস্যা বিরাজ করছে তার যথাযথ সংস্কার করতে হবে। বাজেটের আকার এবং রাজস্ব আদায়ের মধ্যে বিরাট ফারাক দেখা যায়। বাজেটের সুফল যদি মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীন মানুষের কাছে না যায় তাহলে এ উন্নতিতে লাভ নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্ব শর্ত ও ক্রমবর্ধমান সম্পদের বৈষম্য শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. সায়েম আমীর ফয়সল এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আতিকুল ইসলাম। জাকের পার্টি চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী ও মহিলা ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারাহ্ আমীর ফয়সলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. সায়েম আমীর ফয়সলের অর্থনীতির উপর প্রথম গবেষণা গ্রন্থ ঐঙড গটঈঐ ওঝ ঞঙঙ গটঈঐ -এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অর্থনীতিবিদ ড. সায়েম আমীর ফয়সল ঋণ খেলাপী নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় সরকারের কঠোর উদ্যোগ কামনা করেন। তিনি বলেন, ঋণ দান ও গ্রহণ বিশেষ এক শ্রেণির মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কিংবা মফস্বলের মানুষ এদের মতো ঋণের সুবিধা ভোগ করতে পারে না। এছাড়া শিক্ষা খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রশংসনীয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ