Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

বরিশালে ডিসি লেকের পানি দূষিত

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বরিশাল মহানগরীর ভিআইপি এলাকাখ্যাত রাজা বাহাদুর রোডের ডিসি লেকের পানি পচে ছোট-বড় রুই কাতল, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। দুর্গন্ধে ওই সড়কসহ পার্শ্ববর্তি বঙ্গবন্ধু উদ্যানে হাটতে আসা নগরবাসীসহ গ্রীন সিটি পার্কের শিশুদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গত দিন তিনেক ধরে স্থানীয় বালুর মাঠ বস্তির ছেলে বুুড়ো সকলেই ডিসি লেকে অর্ধমৃত অবস্থায় ভেসে ওঠা এসব মাছ ধরছে। তবে ইতোমধ্যে মৎস বিভাগ থেকে পানি শোধনের জন্য কিছু রাসায়নিক প্রয়োগ করায় এসব মাছ খাবার উপযোগী কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টি নিয়ে উদাসীন জেলা ও নগর প্রশাসন। এমনকি লেকটিতে ভেসে ওঠা অর্ধমৃত প্রায় ১৫ কেজি ওজনের বিশাল একটি কাতল মাছ তুলে এনেছে স্থানীয় এক যুবক।

দীর্ঘদিনের পুরনো এ লেকটির সাথে ইতোপূর্বে পার্শ্ববর্তি কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল সুবিধা থাকলেও জেলা প্রশাসকের বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সে নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হবার ফলেও লেকটিতে বাড়তি পানির উৎস বন্ধ। দীর্ঘ কয়েকটি বছর ধরে এ লেকটির ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করাসহ সব ধরনের সংস্কার বন্ধ থাকায় এ করুন পরিনতি বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। উপরন্তু বঙ্গবন্ধু উদ্যানের আসেপাশে গত বছর খানেক যাবত বেশ কিছু স্থায়ী ও পথ খাবার দোকান চালু হওয়ায় সেখানে প্লাস্টিক তৈজসপাত্রসহ খাবারের উচ্ছিষ্ট লেকটিতে ফেলা হচ্ছে রাতের আঁধারে। ফলে দুষণের কবলে পড়ে লেকের পানি পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
লেকটির পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম কোনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা জজ, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাসভবন। পশ্চিম তীরে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে একটি সুদৃশ্য ঘাটলাও নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মালিকানাধীন ও তত্ত¡াবধানে থাকায় এ লেকটি ডিসি লেক হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরেফিন বাদলের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করার কথাও জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তাদেরকে কিছু অবহিত করেননি। বরিশালের জেলা প্রশাসক দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা নাজির হাবিবুর রহমান জানান, লেকের পানি নষ্ট হয়েছে মাস দুই আগেই। তবে এর কোন সঠিক কারণ আমাদের জানা নেই। মাস দেড়েক আগে মৎস দপ্তরের পরামর্র্শে পানি শোধনের জন্য ১০ মন চুন ফেলা হয়েছিল লেকটিতে। কিন্তু পানি শোধন না হয়ে তা আরো বিষাক্ত হয়ে গেছে। ফলে মাছ মরে ভেসে উঠছে। তিনি আরো জানান, রোববার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা লেকটি পরিদর্শন করেছেন। তারা পানি শোধনের জন্য নতুন করে ওষুধ প্রয়োগ করেছেন।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস জানান, গত রোববার পানি শোধনের জন্য ১০ হাজার টাকা মূল্যের ২শ’ কেজি ‘জিওলাইক’ নামের ওষুধ পানিতে দেয়া হয়েছে। এটি পানির সাথে মিশে গেলে মাছ মরা বন্ধ হবে। তবে এ ওষুধ প্রয়োগের পরে বৃষ্টি হওয়া জরুরি। কেননা বৃষ্টি ছাড়া ওষুধ পানির সাথে মিশানো সম্ভব না। যেহেতু বৃষ্টি হয়নি তাই লেকে পাম্পের মাধ্যমে নতুন পানি দেয়া জরুরি বলেও জানান মৎস্য কর্মকর্তা। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীতে কোন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। পানি পাম্প করারও কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ