Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

চার দশক উদযাপনের রোডম্যাপ ঘোষণা করল মাইল্স

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাড়া জাগানো ব্যান্ডের অন্যতম ‘মাইল্স’। যারা অগণিত সঙ্গীতপ্রেমীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়েছে চার দশকের পথ। এই পথপরিক্রমায় চলতি বছরের ৪০ বছরে পা দিয়েছে মাইল্স। অগ্রযাত্রার এই সুবর্ণ সময় স্মরণীয় করে রাখতে দেশ-বিদেশে বেশ কয়েকটি কনসার্ট আয়োজন করবে দলটি। দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ, মানাম আহমেদ, সৈয়দ জিয়াউর রহমান তুর্য এবং ইকবাল আসিফ জুয়েল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান উইন্ডমিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাব্বির রহমান তানিম। সংবাদ সম্মেলনে মাইল্স সদস্য শাফিন আহমেদ বলেন, চল্লিশ বছর উদযাপনকে সামনে রেখে আমারা অনেক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। মাইলসের এই পর্যন্ত ১১ টি অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে। এর পাশাপাশি চারটি বেস্ট অফ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে ভারত থেকে দুটি এবং আমেরিকা থেকে দুটি। ৪০ বছরে পূর্তি একদিনের কনসার্টে শেষ হবে না, আগামী ৫-৬ মাস ধরে চলবে। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরে থাকছে নানা আয়োজন। ব্যান্ডের আরেক সদস্য হামিন আহমেদ জানান, এটা আমাদের জন্য আনন্দের একটি বছর। এটা আমাদের শ্রোতা, দর্শক এবং ফ্যানদের নিয়ে। আমাদের শুরুটা হবে আমেরিকা সফর দিয়ে। চলতি মাসেই আমরা সেখানে বিভিন্ন কনসার্টে অংশগ্রহণ করব। যা শেষ হবে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ১২টির অধির একক শোতে অংশ নেবে মাইলস। এরপর সেপ্টেম্বেরে কানাডা ট্যুরে অংশ নিব। সেখানেও ৬টি শো হবে। দেশে ফিরেই আবার অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে আমরা অস্ট্রলিয়ায় ৫-৬টি শো তে অংশ নেব। তারপর দেশে। বাংলাদেশী ব্যান্ড হিসেবে আমেরিকায় আমাদের প্রথম শো ছিল ১৯৯৬-তে। যেখানে মাইলস একক আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৯ সালে মাইলস যাত্রা শুরু করলেও আমাদের জন্য ৮২ সাল বেশ উল্লেখযোগ্য ছিলো। কারণ তখন সাধারণ শ্রোতাদের সামনে আমরা হাজির হই স্ব-শরীরে। এর আগে শুধুমাত্র ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমরা পারফরম করতাম, যেখানে সাধারণ শ্রোতার উপস্থিতি ছিল কম। দেশের ইভেন্টগুলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান উইন্ডমিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাব্বির রহমান তানিম বলেন, দেশের বাইরে ব্যান্ডগুলো অনেক জনপ্রিয় তার অন্যতম কারণ তাদের উপস্থাপন। বিভিন্ন শোয়ের ¯পন্সরের মাধ্যমে বড় আয়োজন করে থাকে তারা। যা এদেশেও শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা এবারের মাইলসের কনসার্ট। আমারা একটু আলাদাভাবে এই আয়োজনটি করছি। শুধুমাত্র একটি ইভেন্টের মাধ্যমে ৪০ বছর পূর্তিকে শেষ করবে না। এটা অনেক শ্রোতা বা দর্শকে অংশগ্রহণে হবে। এই জার্নির নাম ‘ম্যাজিক অফ মাইলস’। যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্যুরের পাশাপাশি ঢাকার বাইরে চারটি কনসার্ট এবং ঢাকায় একটি গালা কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার বাইরের কনসার্টগুলো হবে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা এবং রাজশাহী। কনসার্টের আছে রোড শো হবে। ঢাকার গালা ইভেন্টটি আর্মি স্টেডিয়াম অথবা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪০ বছর উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট এবং খুলনায় কনসার্টের আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনে মাইলসের জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি তাদের নিজেদের পছন্দের অনেক গান পরিবেশন করা হবে। এছাড়া দেশের অন্য শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ডগুলো মাইল্সের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানে ঢাকার কনসার্ট মাতাবে। যারা এ কনসার্টে আসার সুযোগ পাবেন, তারা এই ৪০ বছরের কালের সাক্ষী হয়ে থাকবেন। ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে- মাইল্স ব্যান্ডের সদস্যদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের প্রদর্শনী, মাইল্সের বিভিন্ন সময়ের দূলর্ভ ছবি প্রদর্শন, মাইল্সের বিভিন্ন অর্জন প্রদর্শন, গানের রিলিক এবং তার পেছনের কাহিনীসহ প্রদর্শন ও মাইল্সের যেসব সদস্য প্রয়াত, তাদের স্মরণে একটি জোন। ফলে নতুন প্রজন্মের ভক্ত বা শ্রোতারা জানতে পারবেন মাইল্সের ইতিহাস। উল্লেখ্য, ফরিদ রশিদের হাত ধরে ১৯৭৯-এ যাত্রা শুরু করে মাইল্স। সেই থেকে ব্যান্ডটি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিভিন্ন ধারার মিউজিকের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশে বাংলা রক মিউজিককে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গেছে। দেশের পাশাপাশি সমানভাবে সমাদৃত হয়েছে পশ্চিম বাংলা এবং বিদেশে বসবাসরত বাঙালিদের মাঝে। মাইল্সের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে। তার আগে প্রকাশিত হয় দুটি ইংরেজি গানের অ্যালবাম ‘মাইল্স’ ও ‘এ স্টেপ ফারদার’। মাইল্সের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘প্রথম প্রেমের মতো’, ‘গুঞ্জণ শুনি’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, ‘নীলা’, ‘কি যাদু’, ‘কতকাল খুঁজব তোমায়’, ‘হৃদয়হীনা’, ‘স্বপ্নভঙ্গ’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘বলব না তোমাকে’, ‘জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন’ এবং ‘প্রিয়তমা মেঘ’ ইত্যাদি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন