Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কিছুক্ষনের মধ্যেই

একই সাথে ৪টি হাইস্পীড ফেরি বোট ও হাইস্পীড ডাইভিং বোট-এর কিললেয়িং

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৯, ১২:২১ পিএম

খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের জন্য নির্মিত ৩টি ইনশোর পেট্রোল ভেসেল-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং হস্তান্তর সহ আরো ৪টি হাইস্পীড ফেরি বোট ও হাইস্পীড ডাইভিং বোট-এর কিল লেয়িং হতে যাচ্ছে কিছুক্ষনের মধ্যেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে এসব নৌযানের উদ্বোধন ও কিল লেয়িং করছেন। এ উপলক্ষে শিপইয়ার্ড-এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কমোডর আনিসুর রহমান মোল্লা (এল) এনইউপি, পিএসসি-বিএন’এর সভাপতিত্বে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ড-এর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক এনইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি-বিএন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। ২০১৬-এর ২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ২৬৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এসব আইপিভি;র নির্মান কাজের সূচনা করেন। চীনা কারিগড়ি সহায়তায় সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে নির্মিত এসব আইপিভি বাংলাদেশ কোষ্ট গার্ডের নিবিড় টহলদারী সহ সক্ষমতা আরো বৃদ্ধির করবে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথ এবং নদ-নদীর নিরাপত্তার সাথে ইলিশ সহ আমাদের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষন ও সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দায়িত্বশীল মহল।
একইসাথে উপক’লীয় বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা সহ ডাইভিং অপারশেন সহ টহল কাজে অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সহ দুটি হাইস্পীড ডাইভিং বোট ও দুটি হাইস্পীড ফেরি বোটের নির্মান কাজের সূচনা করবেন স্বরাষ্ট্র সচিব। ফ্রান্সের নৌযান জরিপ ক্লাসিফেকেশন সোসাইটি ‘ ব্যুরো ভেরিটাস’এর তত্ববধানে এসব হাইস্পীড ফেরি ও ডাইভিং বোট সমুহ নির্মিত হবে বলে খুলনা শিপইয়ার্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
৬৭ফুট দৈর্ঘ ও প্রায় ২১ফুট প্রস্থ দুটি হাইস্পীড ফেরি বোট কোষ্টগার্ডের বিভিন্ন ঘাটি ও অপরেশনাল কার্যক্রমে ব্যাবহৃত হবে। প্রায় ৫৫ টন পানি অপসারন করে ঘন্টায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলতে সক্ষম এসব নৌযানে জাপানের ‘ইনয়নমার’ ব্রান্ডের ৪৭৮ কিলোওয়াটের ২টি করে মূল ইঞ্জিন ছাড়াও একই ব্রান্ডের ৩৬.৮ কিলোওয়াটের ২টি জেনারেটর সংযোজন করা হবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড’ই দেশে প্রথমবারের মত এধরনের বিশেষায়িত আধা সামরিক নৌযান নির্মান করতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য মাঝারী থেকে বড় ধরনের যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও সাবমেরিন টাগ সহ বিভিন্ন ধরনের সমর নৌযানের নির্মান সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠনটি কোষ্ট গার্ডের জন্যও টাগ বোট, ভাসমান ক্রেন ও পন্টুন তৈরী করছে। খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে কন্টেইনার শীপ, অয়েল ট্যাংকার, প্যাসেঞ্জার শীপ, ট্যুরিস্ট বোট, ফায়ার ফাইটিং বোট ও ফেরীসহ সব ধরণের নৌযান নির্মান কাজও সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছাড়াও বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্যও নানা ধরনের নৌযান নির্মান করেছে। গত অর্থÑবছর খুলনা শিপইয়ার্ড প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা করপূর্ব মুনফা অর্জন করে। এক সময়ে রুগ্ন ও বিরাষ্ট্রীয়করন তালিকাভূক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে প্রায় পৌনে ২শ কোটি টাকার দায়দেনা সহ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ব্যাবস্থাপনা কতৃপক্ষ সহ কর্মীদের সততা, আন্তরিকতা এবং নিরলশ প্রচেষ্টায় সব দায়দেনা পরিশোধ করে গত প্রায় দু দশকে খুলনা শিপইয়ার্ড ৫শ কোটি টাকার মত নীট মুনফা অর্জনেও সক্ষম হয়েছে।
চায়না ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি’র সরাসরি তত্বাবধানে নির্মিত ১৭০ ফটি দৈর্ঘের ইনশোর পেট্রাল ভেসেলগুলো প্রায় ৩শ টন পানি অপসারন করে ঘন্টায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম। ২৫ ফুট প্রস্থ এসব আধা সামরিক নৌযান একনাগারে দেড় হাজার কিলামিটার পর্যন্ত টহল প্রদান করতে পাড়বে। নৌযানগুলোতে জার্মেনীর ‘এমটিউ’ ব্রান্ডের ২ হাজার ১শ কিলোওয়াটের ২টি করে মূল ইঞ্জিন ছাড়াও আমেরিকার ‘খোলের’ ব্রান্ডের ১শ কিলোওয়াটের ২টি করে জেনারেটর রয়েছে। অত্যাধুনিক এসব টহল নৌযানে দুটি করে নেভিগেশনাল রাডার, ২টি করে হাই ফ্রিকোয়েন্সী কমিউনিকেশন রেডিও সরঞ্জাম ছাড়াও ১টি করে ভিএইচএফ যোগাযোগ সরঞ্জামের পাশাপাশি ১টি করে নেভটেক্স রিসিভার সংযোজন করা হয়েছে। এসব আধা সামরিক টহল নৌযানে ৩০ মিলিমিটারের ২টি করে সেমি অটোমেটিক গান ছাড়াও ১৪.৫ মিলির দুটি গান এবং দুটি করে এলএমজি থাকছে।
সমুদ্র সীমা নির্ধারিত হওয়ায় আমাদের ব্লু-ইকনমী;র যে দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, সে সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কোষ্ট গার্ডকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলছে। আর এরই অংশ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ডে ৩টি ‘ইনশোর পেট্রোল ভেসেল’-এর নির্মান কাজ সম্পন্ন করে আজ হস্তান্তর করা হচ্ছে। আধুনিকায়ন সহ সরকার গৃহীত কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে কোষ্ট গার্ডকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষে ২০১৫ থেকে ’৩০ সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন সহ বাস্তবায়ন চলছে। কোষ্ট গার্ড ইতোমধ্যে দেশের বিশাল উপকুলীয় এলাকা সহ বিভিন্ন নদী বন্দর এবং নৌপথে আস্থা ও নির্ভরতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনলয়ের দায়িত্বশীল সূত্র । এ বাহিনী উপকুলীয় এলাকার নিরাপত্তা, সম্পদ আহরন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। দেশের অভ্যন্তরীন ও উপকুলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল প্রদানের মাধ্যমে চোরাচালান ও মাদাক বিরোধী অভিযান ছাড়াও সুষ্ঠু ও নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ রক্ষার সাথে আইনÑশৃংখলার ক্ষেত্রেও কোষ্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। আর এ লক্ষ্যেই সরকার কোষ্টগার্ডকে একটি আধুনিক আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল মহল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উদ্বোধন


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ