Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

সচেতন হউন

মো. শাহ জালাল | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০১৯, ১২:১০ এএম

জন্মের পরে প্রথম যে নামটি আমরা শিখি তা হলো মা। মা নামটি শোনার পর যেন বুকের ভেতর শীতল হয়ে ওঠে। মায়ের প্রতি সন্তানের ভালবাসা সবসময় নিখুঁত। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতার পেছনে যেমন রয়েছে মায়ের ভালবাসা ও সন্তুষ্টি তেমনই মায়ের অসন্তুষ্টি বা অসম্মানের দরুণ রয়েছে জীবনের মহা অধঃপতন। পৃথিবীতের মহৎ ব্যক্তিদের জীবনে দেখা যায় মায়ের প্রতিচ্ছবি। মায়ের ¯েœহ ভালবাসা এবং সংস্পর্শে মানুষ হয়ে ওঠে তার আদর্শে আদর্শিত। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে দেখা যায় মাতৃত্বের প্রতি মানুষের অসম্মান এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি। একদিকে যেমন মায়ের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে সময় দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বাসার কাজের মেয়ে বা অন্য কারও নিকটে সন্তানকে রাখতে হচ্ছে। যার কারণে সন্তান মায়ের আদর্শ না শিখে অন্য কারও আদর্শ গ্রহণ করছে। এই সন্তানেরাই একসময় তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে। মাকে কটাক্ষ করা, অকথ্য ভাষায় কথা বলাও যেন আজ সচারচর দেখা যায়।

অন্যদিকে অবৈধ মাতৃত্ব গ্রহণ, অবাধ সম্পর্কের কারণে দেখা যাচ্ছে নানা সামাজিক সমস্যা। উঠতি বয়সের তরুণ তরুণীদের এই অবাধ ও অবৈধ মেলার কারণে প্রতিনিয়তই পাকর্ব, নির্জন স্থান বা ম্যানহোলের মধ্যে নবজাতকের লাশ পাওয়া যায়। এই নবজাতকের মাতৃত্বের পরিচয় গোপন করতে নিতে হচ্ছে নানাবিধ অপকর্মের আশ্রয়। কেউ কেউ লজ্জা থেকে চিরতরে পরিত্রাণ পেতে বেঁছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার জঘন্য পথ।
শুধু এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন আগে একজন পরিচিত ডাক্তারের সাথে আলাপ করছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বললেন, বর্তমানে অবিবাহিত নারীদের একটা বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শুধু অবাধ ও অবৈধ মাতৃত্বের কারণে। এরা একদিকে যেমন নানাভাবে মরণব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে অপরদিকে দাম্পত্য জীবনে ঘটছে কলহ, বিবাদ বিচ্ছেদের মতো অসংখ্য ঘটনা। যার প্রভাব পড়ছে পরবর্তী প্রজন্মের উপর। পারিবারিক আদর্শ থেকে বিচুত্য অধিকাংশ শিশু ও কিশোর অপরাধের মূল কারণেই রয়েছে অবৈধ মাতৃত্ব এবং মাতৃত্বের প্রতি অসম্মান। সামাজিক এই দুরারোগ্য থেকে মুক্তির জন্য পুরুষ সমাজকে যেমন হকে হবে মহিলাদের প্রতি সম্মানী দৃষ্টিভঙ্গিড়র অধিকারী তেমনি মহিলাদের হতে হবে আত্মসম্মানী ও সচেতন। সর্বমহলে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন ও সম্মানবোধ ফিরিয়ে দিতে পারে আমাদের এই সুন্দর সমাজের মধ্যে আত্মহত্যা বিবাগ-বিচ্ছেদ, মানুসিক ভারসাম্যহীনতা থেকে চিরমুক্তি।
নৈতিক শিক্ষা শুরু হোক শৈশব থেকেই
জান্নাতুত তাজরী

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাস করতে হলে তাকে মেনে চলতে হয় নানা রকমের নিয়ম-কানুন। এসব যদি বাল্যকাল থেকে সঠিকভাবে শিক্ষা দেওয়া না হয় তবে পরিণত বয়সে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। শিক্ষা হলো মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। শিক্ষার তিনটি দিক রয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শিক মূল্যবোধ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আদর্শিক বা নৈতিক শিক্ষার সংমিশ্রণ না ঘটলে একজন মানুষ কখনও আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত হতে পারে না। শৈশবকে কাঁদামাটির সাথে তুলনা করা হয়। কাঁদামাটিকে যেমন ইচ্ছেমত রূপ দান করা সম্ভব হয়, ঠিক তেমনই একজন শিশু শৈশবের শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই বেড়ে উঠে। পরিবারের সদস্যদের সাথে শিশুর বেশি ঘনিষ্ঠতা থাকে। ফলে স্বভাবতই পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা গভীরভাবে অনুধাবন করে যা প্রতিফলিত পরিণত বয়সে। শিশুকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার দীক্ষা দেওয়া না হয় তবে সে পরিণত বয়সে নানারকম অপকর্মের সাথে জড়িয়ে যাবে যার বাস্তব প্রমাণ আমরা সমাজে দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে অনেক শিক্ষিত সন্তানের পিতামাতার বৃদ্ধাশ্রমে ঠিকানা হয়, অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটছে ভুরিভুরি। নৈতিকতার শিক্ষা না পেলে একজন মানুষের বিবেক জাগ্রত হয় না। আর তা না হলে পশু আর ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। ফলে তার দ্বারা যেকোনো অন্যায় করা সম্ভব। তাই প্রতিটি শিশু যেন প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষার সংমিশ্রণে বেড়ে উঠে, সে দিকে সচেতন হবার জন্য সকলকে আহŸান করছি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন