Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

পেশায় গাড়িচালক, নেশা যৌন হয়রানি!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৯, ৮:৩৩ পিএম

প্রথমে সে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সব স্বীকার করে।

 

পেশায় গাড়িচালক, বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই।কিন্তু এর বাইরে বিকৃত এক নেশা ছিল তার।পথেঘাটে গাড়ি নিয়ে চলতে-ফিরতে একাকী কোনো নারী দেখলেই তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়তো। কখনও কখনও সামনা-সামনি কুপ্রস্তাব দিতো। আবার কখনও হেনস্থা করে দৌঁড়ে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যেত মুহূর্তেই। চলতি পথে এমন বিকৃত ইচ্ছা চরিতার্থ করে আসছিল অনেক দিন ধরেই। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

 

সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সে। ঘটনার সময় গাড়ি নিয়ে পালালেও ওই তরুণী গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি টুকে রেখেছিলেন। ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ওই ছাত্রী থানায় মামলা করলে খিলগাঁও থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিকৃত মানসিকতার গাড়িচালক আবদুস সাত্তারকে।

 

গ্রেপ্তারের পর সে ওই বিশ্ববিদদ্যালয় ছাত্রীসহ আরও অনেক নারীকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা এক শিক্ষার্থী সিএনজিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেন। এজন্য প্রতিদিন খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে সিএনজি অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করতেন তিনি। এই সময়েই গত মাসের শুরুতেই হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে থামে তার সামনে। প্রাইভেটকারের চালক তার কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করে। প্রথমদিন বিষয়টিতে বিব্রত হলেও পরিবারের সদস্যদের জানাননি ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু একই ঘটনা ঘটে আরও দুবার। সর্বশেষ গত ১৩ মে খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের সামনের এলাকায় ময়লার ভাগাড়ের পাশে সিএনজি অটোরিকশার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই শিক্ষার্থী। সেদিনও সাদা রঙের সেই প্রাইভেটকারটি তাকে অনুসরণ করে পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ না করে দাঁড় করিয়ে রেখে তরুণীর সঙ্গে অশ্লীল ইঙ্গিত ও গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। মুহূর্তেই ওই তরুণী চিৎকার করে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় চালক। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গাড়ির নম্বর টুকে রাখেন।

 

পুলিশ ও ভুক্তভোগী ওই তরুণীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা খিলগাঁও থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে খিলগাঁও থানা পুলিশ প্রাইভেটকারটির নম্বর (ঢাকা মেট্রো গ ২৫-৮২৫৫) ধরে বিআরটিএ থেকে গাড়ির মালিকের সন্ধান পায়। পরে গত ১৭ জুন ওই গাড়ির মালিক ও তার চালককে কোনও কিছু না জানিয়েই থানায় ডাকা হয়। এরপর ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে ডেকে গাড়িচালককে শনাক্ত করতে বলা হয়। পরে টিআই (টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন) প্যারেডের মাধ্যমে গাড়িচালক সাত্তারকে শনাক্ত করেন ওই তরুণী। টিআই প্যারেড হলো একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে রেখে বাদী বা অভিযুক্তের দ্বারা অপরাধী শনাক্ত করা।

 

পুলিশ জানায়, শনাক্তের পর প্রথমে গাড়িচালক সাত্তার যৌন হয়রানির কথা স্বীকার না করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সব স্বীকার করে। ১৭ জুন ওই তরুণীর বাবা এসএমএ মোর্তুজা রাশেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আবদুস সাত্তার একজন চিকিৎসকের গাড়ি চালাতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন এলাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুস সাত্তার অন্তত ৩০ থেকে ৩৫জন নারীকে যৌন হয়রানি করার কথা স্বীকার করেছে।

 

পুলিশের খিলগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘‘সাধারণত এসব ক্ষেত্রে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে কেউ অভিযোগ করে না। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই মেয়েটির অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিআরটিএ থেকে গাড়ির মালিককে শনাক্ত করি। পরে ওই তরুণীর মাধ্যমে চালককে শনাক্ত করি।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘আবদুস সাত্তার আরও অনেক তরুণীকে চলতি পথে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। এটা তার কাছে এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছিল। তাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্তকাজ শেষ করে দ্রুত আদালতে চার্জশিটও দেওয়া হবে।’’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যৌন হয়রানি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ