Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আদমদীঘিতে সরকারীভাবে ধানক্রয়ে কৃষকের চেয়ে বেশী লাভবান হচ্ছে ফড়িয়ারা

আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০১৯, ৩:১৪ পিএম

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সরকারীভাবে ধান ক্রয় করতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত করা হয়। লটারিতে নাম ওঠা ভাগ্যবান কৃষকরা নিজে সরকারী গুদামে ধান না দিয়ে বেশীর ভাগ কৃষক বরাদ্দের স্লিপ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকারের প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যহত হচ্ছে। গত ২৫ দিনে এ উপজেলায় দুটি গুদামে মাত্র ৩৪ মেট্রিকটন ধান কেনা হয়েছে। একই সাথে লটারিতে কৃষক নির্বাচন করায় প্রকৃত অনেকে কৃষক বাদ পরেছে ।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় সরকারি ভাবে ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ধান সমৃদ্ধ এ উপজেলার জন্য স্বল্প পরিমাণ ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়ায় কৃষক নির্বাচন নিয়ে জটিলতায় পড়ে উপজেলা ধান ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি। পরে লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচিত করে উপজেলা আভ্যন্তরীণ ধান ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় কৃষি কার্ডধারি কৃষকের সংখা ২৭ হাজার । এর মধ্যে থেকে যে সকল কৃষকের জমির পরিমান এক থেকে দুই একর এ রকম প্রায় পাঁচ হাজার কৃষককে লটারিতে অংশ গ্রহনের জন্য মনোনিত করা হয়। গত ২৭ মে লটারির মাধ্যমে ৩৬৩ জন কৃষককে নির্বাচিত করে প্রত্যেক কৃষককে এক মেট্রিক টন ধান সরকারি গুদামে বিক্রির স্লিপ দেয়া হয়। লটারিতে বিজয়ী অধিকাংশ কৃষক তাঁদের লটারির স্লিপ ফড়িয়াদের নিকট দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। কায়েতপাড়া গ্রামের সাহের আলী,ফরিদ সরদার জানান সরকারীভাবে দেরীতে ধান কেনা সীদ্ধান্ত হওয়ায় তরা অনেক আগে বাজারে ধান বিক্রি করে দেন। একইভাবে উপজেলার দমদম, করজবাড়ি, কদমা,ডহরপুর, ডুমরিগ্রাম,কড়ই,পুসিন্দা’সহ একাধিক গ্রামের কৃষকদের স্লিপ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে স্থানীয় হাট বাজারে প্রতি মন চিকন জাতের জিরাশাইল (মিনিকেট),বিআর-২৯ ও কাটারি ভোগ ধান ৭০০ এবং মোটা জাতে হাইব্রিড জাতের ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ভাবে প্রতি মন মোটা ধান ১০৪০ টাকা মন দরে কৃষকদের নিকট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজার মুল্যের চেয়ে সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মুল্যের ব্যবধান প্রায় ৫০০ টাকা। ধানের ক্রয়মুল্যের এই ব্যধানের কারনে ফড়িয়ারা কৃষকদের নিকট থেকে ধান কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ফড়িয়ারা গুদাম রক্ষকদের সাথে আঁতাত করে কৃষকদের কাছ থেকে স্লিপ কিনে ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

কৃষকরা তাঁদের ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করছে কিনা তা তদারকিতে কৃষি বিভাগের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। দমদমা গ্রামের কৃষক গোলাম আম্বিয়া বলেন, উপ-সহকারি কর্মকর্তারা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন না করায় লটারী করার সময় প্রকৃত বহু কৃষকের নাম বাদ পরায় তাদের নাম ওঠেনি। ফলে সরকারি ভাবে কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ অভিযানে এলাকার কৃষকরা লাভবান না হয়ে লাভবান হচ্ছে ফরিয়ারা। টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদে পকেটে। এবিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা আভ্যন্তরীন ধান ক্রয় সংক্রান্ত্র কমিটি’র সভাপতি ও আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল­াহ বিন রশিদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি খুব জটিল কৃষকরা যদি তাঁদের স্লিপ বিক্রি করে দেয় তাহলে সেটি ধড়া খুব কঠিন। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে কাউকে সনাক্ত করা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহানশাহ হোসেন বলেন, বুধবার পর্যন্ত উপজেলার দুটি গুদামে ৩৪ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। প্রকৃত যারা কৃষক এবং যাঁদের কৃষি কার্ড ও লটারির স্লিপ রয়েছে শুধুমাত্র তাঁদের নিকট থেকে ধান কেনা হচ্ছে ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ