Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ভারতকে কাঁপিয়ে দিল আফগানিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জুন, ২০১৯, ১২:৩০ এএম | আপডেট : ১:০৩ এএম, ২৩ জুন, ২০১৯

ইংলিশ কন্ডিশনে যে কোনো দলই চিন্তা করে কয়টা পেসার নিয়ে খেলা যায়- চার, নাকি পাঁচ। সেখানে ভারতের বিপক্ষে তিন স্পেশালিস্ট স্পিনার খেলানোর দুঃসাহস দেখালো আফগানিস্তান। তাতেই বাজিমাত! আফগান স্পিনের সামনে মুশড়ে পড়ল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। এরপরও শেষ হাসি হাসতে পারল কই আফগানিস্তান। মোহাম্মাদ সামির হ্যাটট্রিক আর জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
সাউদাম্পটনের রোজ বৌলে বিশ্বকাপের ২৮তম ম্যাচে গতকাল টস জিতে ভারতের ৮ উইকেটে করা ২২৪ রানের জবাবে এক বল বাকি থাকতে ২১৩ রানে গুটিয়ে যায় গুলবাদিন নাইবের দল। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে ১৮ বলে ২৪ রানের হিসাবটা মেলাতে পারেনি আফগানিস্তান।
সামির শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৬। প্রথম বলে বাইন্ডারি হাঁকিয়ে সম্ভবনা উজ্জ্বল করেন মোহাম্মাদ নবি। পরের বলে সিঙ্গেল নেননি। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দেন লং অনে। এরপর টানা দুই বলে আফতাব আলম ও মুজিব-উর রহমানকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সামি।
১৯৮৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চেতন শর্মার হাত ধরে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এরপর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন সামি। সব মিলে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা দশম বোলার হলেন এই ডানহাতি পেসার।
২৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরবর্তি ম্যাচে টানা বলে উইকেট নেয়ার সুযোগ থাকবে সামির সামনে। কিন্তু এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাবেন কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন। ভুবনেশ্বর কুমার ইনজুরিতে না পড়লে যে আফগান ম্যাচেই খেলা হত না তার।
ধীরে শুরু করা আফগানিস্তান ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন সামিই। এরপর উইকেট বাঁচিয়ে ধীরে চলা নীতিতে এগুতে থাকে আফগানরা। ২৭তম ওভারে আসে দলীয় একশ। এসময়ও হাতে উইকেট ছিল আটটি। টপ ও মিডিল অর্ডারে প্রায় প্রত্যেকেই আউট হয়েছেন থিতু হয়ে। নবি যত সময় ব্যাটে ছিলেন ততক্ষণ বেঁচে ছিল আফগানদের স্বপ্ন। সামির শিকার হওয়ার আগে এই অলরাউন্ডার ৫৫ বলে করেন ৫২। এরপরও ম্যাচ সেরা সামি নন, বুমরাহ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে জেকে বসা রহমত শাহ (৩৬) ও হাশমতউল্লাহ শহিদির (২১) উইকেট দুটি নিয়ে বুমরাই বিচ্ছিন্ন করেন দুটি চল্লিশোর্ধো রানের জুটি। শেষ দুই ওভারে দেন নয়টি ইয়োর্কার। তার চাপেই শূলত হাতে উইকেট নিয়েও জয়ের পথ থেকে ছিটকে যায় আফগানিস্তান।
এর আগে স্লো উইকেটে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে আফগানিস্তান। এই চাপ তারা ধরে রাখে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। রানের জন্য হাপিত্যেশ করতে থাকে ভারত। শেষ পর্যন্ত যে স্কোর তারা দাঁড় করায় তা ২০০৭ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন।
পুরো ইনিংসেই স্পিনারদের বিপক্ষে ভুগতে হয়েছে ভারতকে। চেষ্টা করেও বড় জুটি গড়তে পারেনি তারা। ফিফটি জুটি আসে তিনটি- দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম উইকেট। কোনবারই ষাট পার হতে পারেনি। অবশ্য কোহলির ব্যাটিং ছিল সাবললী। স্রোতের বিপরীতে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অধিনায়ক করেছেন ৬৩ বলে ৬৭ রান। যেখানে লোকেশ রাহুল (৫৩ বলে ৩০), বিজয় শঙ্কর (৪১ বলে ২৯), মাহেন্দ্র সিং ধোনিরা (৫২ বলে ২৮) থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৩১তম ওভারে দলীয় ১৩৫ রানে কোহলি বিদায় নেয়ার পর সংগ্রহটা দুইশ পার হয় কেদার যাদবের ফিফটির কল্যাণে। ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটিও আসে তার ব্যাট থেকে।
স্পিনের বিপক্ষে তাদের লড়াইটা কেমন ছিল তা একটি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। দুই পেসার আফতাব আলম ও গুলবাদিন নাইবের ১৬ ওভারে ১০৫ রান নিয়েছে ভারত। সেখানে স্পিনের ৩৪ ওভারে তারা নিতে পারে ১১৯ রান। ৫ উইকেট হাতে নিয়েও শেষ ৪ ওভারে ১৯ রান যোগ করতে পারে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
পাঁচ ম্যাচে ভারতের এটি চতুর্থ জয়। অন্যটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। ৬ ম্যাচ খেলা ইংল্যান্ডের সমান ৯ পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে এগিয়ে তিনে ভারত। টানা ছয় ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে আফগানিস্তানের।
ভারত : ৫০ ওভারে ২২৪/৮ (রাহুল ৩০, রোহিত ১, কোহলি ৬৭, শঙ্কর ২৯, ধোনি ২৮, কেদার ৫২, পান্ডিয়া ৭, সামি ১, কুলদীপ ১*, বুমরাহ ১*; মুজিব ১/২৬, আফতাব ১/৫৪, গুলবাদিন ২/৫১, নবি ২/৩৩, রশিদ ১/৩৮, রহমত ১/২২)। আফগানিস্তান : ৪৯.৫ ওভারে ২১৩ (জাজাই ১০, গুলবাদিন ২৭, রহমত ৩৬, হাশমতউল্লাহ ২১, আসগর ৮, নবি ৫২, নাজিবুল্লাহ ২১; সামি ৪/৪০, বুমরাহ ২/৩৯, চাহাল ২/৩৬, পান্ডিয়া ২/৫১, কুলদিপ ০/৩৯)। ফল : ভারত ১১ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : জাসপ্রিত বুমরাহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ