Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

কৃষকের লাভ ফড়িয়াদের ভাগে সরকারিভাবে ধান ক্রয়

আদমদীঘি (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কৃষকের সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকার লটারীর মাধ্যমে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে কৃষকের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বরং লাভের গুড় খাচ্ছে ফড়িয়ারাই।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় লটারিতে নাম ওঠা কৃষকরা সরকারী গুদামে ধান না দিয়ে তাদের বরাদ্দের স্লিপ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৫ দিনে এ উপজেলায় দুটি গুদামে মাত্র ৩৪ মেট্রিকটন ধান কেনা হয়েছে।

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় সরকারি ভাবে ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ধান সমৃদ্ধ এ উপজেলার জন্য স্বল্প পরিমাণ ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়ায় কৃষক নির্বাচন নিয়ে জটিলতায় পড়ে ধান ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখা ২৭ হাজার। প্রায় পাঁচ হাজার কৃষককে লটারিতে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হয়। গত ২৭ মে লটারির মাধ্যমে ৩৬৩ জন কৃষককে নির্বাচিত করে প্রত্যেক কৃষককে এক মেট্রিক টন ধান সরকারি গুদামে বিক্রির স্লিপ দেয়া হয়। লটারিতে বিজয়ী অধিকাংশ কৃষক তাদের লটারির স্লিপ ফড়িয়াদের নিকট দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। কায়েতপাড়া গ্রামের সাহের আলী, ফরিদ সরদার জানান সরকারীভাবে দেরীতে ধান কেনা সিদ্ধান্ত হওয়ায় তরা অনেক আগে বাজারে ধান বিক্রি করে দেন। একইভাবে উপজেলার দমদম, করজবাড়ি, কদমা, ডহরপুর, ডুমরিগ্রাম,কড়ই,পুসিন্দাসহ একাধিক গ্রামের কৃষকদের স্লিপ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ চিকন জাতের জিরাশাইল (মিনিকেট), বিআর-২৯ ও কাটারি ভোগ ধান ৭০০ এবং মোটা জাতে হাইব্রিড জাতের ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ভাবে প্রতি মণ মোটা ধান ১০৪০ টাকা মণ দরে কৃষকদের নিকট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজার মূল্যের চেয়ে সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্যের ব্যবধান প্রায় ৫০০ টাকা। ধানের ক্রয়মূল্যের এই ব্যবধানের কারণে ফড়িয়ারা কৃষকদের নিকট থেকে ধান কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ফড়িয়ারা গুদাম মালিকদের সাথে আতাঁত করে কৃষকের কাছ থেকে স্লিপ কিনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। দমদমা গ্রামের কৃষক গোলাম আম্বিয়া বলেন, উপ-সহকারি কর্মকর্তারা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন না করায় লটারীর সময় প্রকৃত অনেক কৃষকের নাম বাদ পড়ে। ফলে ধান সংগ্রহ অভিযানে এলাকার কৃষকরা লাভবান না হয়ে লাভবান হচ্ছে ফড়িয়ারা। টাকা চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের পকেটে।

এ বিষয়ে উপজেলা অভ্যন্তরীণ ধান ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ বিন রশিদের বলেন, বিষয়টি খুব জটিল কৃষকরা যদি তাদের স্লিপ বিক্রি করে দেয় তাহলে সেটি ধরা খুব কঠিন। বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে কাউকে শনাক্ত করা গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহানশাহ হোসেন বলেন, বুধবার পর্যন্ত উপজেলার দুটি গুদামে ৩৪ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। প্রকৃত যারা কৃষক এবং যাদের কৃষি কার্ড ও লটারির ¯িøপ রয়েছে শুধুমাত্র তাদের নিকট থেকে ধান কেনা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ