Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

বগুড়া সদরে ১১ বছরে আ’লীগের ভোট কমেছে অর্ধেকের বেশি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০১৯, ৭:৪১ পিএম

প্রার্থী নির্বাচনে ভুল, নেতাকর্মীদের বিরোধ ও অনিহা, হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্যসহ নানা কারণে বগুড়া-৬ (সদর) আসন ১৯৭৯ সাল থেকে অর্থাৎ ৪০ বছর আওয়ামী লীগের হাতছাড়া রয়েছে।

মাঝে ৫ বছর মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। এ ছাড়া ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাড়ে ৭৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও ১১ বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের বেশিতে নেমে এসেছে। এ কারণে সদর আসনটি দীর্ঘদিন জামায়াত ও বিএনপি হাতে থেকে যায়।

বগুড়ার ইতিহাস অনুসন্ধানী প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রহিম বগ্রা ও উইকিপিডিয়া সূত্র জানায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা ডক্টরস কেমিক্যালের মালিক বিশিষ্ট চিকিৎসক জাহিদুর রহমান, ১৯৭৩ সালে বিশিষ্ট আইনজীবী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট হাশেম আলী খান জাহেদী, ১৯৭৯ সালে বিএনপির এসএম ফারুক, ১৯৮৬ সালে জামায়াতের মাওলানা আবদুর রহমান ফকির, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুর রহমান ভাণ্ডারী, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন।

পরে তিনি আসনটি ছেড়ে গেলে উপনির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ২০০৮ সালে ৯ম সংসদ নির্বাচনে আবার খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন। তিনি আসন ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জন করায় জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমরকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। এ ভোটে ফখরুল পেয়েছিলেন ২ লাখ ৭ হাজার ২৫ ভোট এবং মহাজোট প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর পান ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট।

পরে এই আসনে মির্জা ফখরুল শপথ না নেয়ায় শূন্য ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২৪ জুনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএমটি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট।

দীর্ঘ ৪০ বছর বগুড়া সদর আসনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেদখলে ও বিএনপির দখলে থাকা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়ার প্রবীণ জনগণ জানান, স্বাধীনতার পর রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন বগুড়াবাসী ভুলতে পারেন না। তাই তারা আওয়ামী লীগ বিমুখ হয়ে পড়েন। তাই দিনদিন এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট কমছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহবুবুল আলম বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালের ৯ম সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ভোট পান। এরপর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট কমতে থাকে।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর মাত্র ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পান। আর ২৪ জুন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এসএমটি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট।অর্থাৎ গত ১১ বছরে আওয়ামী লীগের ভোট কমেছে ৪২ হাজার ৩৩৭টি।

এ ছাড়া গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান শফিক ৩৭ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান এবং একই সংগঠন থেকে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ডালিয়া খাতুন রিক্তা ৩০ হাজার ৬১৮ ভোট পেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তারা দু’জনই বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

সদর আসনে আওয়ামী লীগের ভোট কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিক ডা. মকবুল হোসেন জানান, নির্বাচনে প্রচারণা পদ্ধতি ভুল, ভোটারদের কাছে না গিয়ে শহরে এসিরুমে বসে মিটিং, দায়িত্বশীল নেতাদের অনিহা, অসহযোগিতাসহ নানা কারণে দিন দিন আওয়ামী লীগের ভোট কমে যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আওয়ামী লীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ