Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

নতুন অবরোধের হুমকি ট্রাম্পের

এবার নিষেধাজ্ঞার কবলে আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ইরানের অর্থনীতি চরমভাবে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে দেশটির ওপর আবারও অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। এক টুইট বার্তায় এই হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এনবিসি’র সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় তারা (ইরান) আলোচনা করতে চায়। তারা যে অবস্থানে আছে সেটা তারা পছন্দ করছে বলে মনে হয় না। তাদের অর্থনীতি চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে ইরান জানিয়ে আসছে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসবে না তারা। অপর এক খবরে বলা হয়, পূর্ব ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ‘আরও কিছু কারণ’র কথা বলে এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরান আলোচনায় রাজি থাকলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে তারা। ট্রাম্প ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার কিছুক্ষণ পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দফতরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র আট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই আট কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি, আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদে এবং আইআরজিসি’র স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ পাকপুর। মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনবে যুক্তরাষ্ট্র। মানুচিন দাবি করেন, নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। স¤প্রতি ইরান ঘোষণা দেয় পরমাণু পরীক্ষার ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত মাত্রার চেয়ে বেশি কাজ করবে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু গত বছর ইউরোপীয় মিত্রদের বাধা সত্তে¡ও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইরানের ওপর তেল রফতানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার এনবিসি নিউজে স¤প্রচারিত সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প বলেছেন, আমি এটা (হামলা)করতে যাচ্ছি না। আমি রক্ষা করতে চাই। যদি তারা অন্য কিছু করে তাহলে এটা দ্বিগুণ হবে। পরে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সোমবার ইরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপ করা হবে। সিএনএন, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প


আরও
আরও পড়ুন