Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

মোস্তাক হত্যা

পরিকল্পনাকারী নুর মোহাম্মদ কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরের চাঞ্চল্যকর মোস্তাক হত্যার ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতা সউদী প্রবাসী নুর মোহাম্মদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে বিচারক।

গত রোববার ওই হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি নুর মোহাম্মদ সউদী আরব থেকে দেশে এসে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার আগে নুর মোহাম্মদ মামলার স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদর্শন করেন। রোববার জামিন নামঞ্জুর হলে নুর মোহাম্মদের লোকজন আরও ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে। মুরাদনগরে আল্লাহর দান মৎস্য প্রকল্পর মালিকানা অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম সউদী প্রবাসী নুর মোহাম্মদ। প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন ও গত ইউপি নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের ঘটনার জের ধরে ওই প্রকল্পের ম্যানেজার মুরাদনগরের পাচপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক মিয়ার সাথে বিরোধ দেখা দেয় নুর মোহাম্মদসহ অন্যান্য অংশীদারদের।

মামলার অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সউদী আরব পাড়ি দেয় নুর মোহাম্মদ। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি প্রজেক্টের কাজের ব্যাপারে ম্যানেজার মোস্তাককে তার মোবাইল ফোনে কল করে সাইফুল। ওইদিন দুপুরে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরে সন্ধ্যায় পৌঁছে প্রজেক্টের লোকজনের সাথে দেখা করে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাঁশকাইট এলাকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উল্লেখিতরা আল্লাহর দান মৎস্য প্রকল্পর ম্যানেজার মোস্তাক মিয়াকে হত্যা করে লাশ বাঁশকাইট মরিচা খালে ফেলে দেয়। মোস্তাকের স্ত্রী পারভীন আক্তার তার স্বামীকে ফোনে না পেয়ে ২৫ জানুয়ারি মুরাদনগর এসে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তিনি মুরাদনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

২৭ জানুয়ারি খালের পাড়ে মোস্তাকের লাশের সন্ধান মিলে। ওইদিনই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে তিনি মামলা করেন। পুলিশ মামলাটির তদন্তে নেমে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত মৎস্য প্রজেক্টের আমির হোসেন, কাজী সাইফুল, আবদুস সালাম, তাজুল ইসলাম, মজলিস মিয়াকে গ্রেফতার করে। মামলা তদন্তে ও স্বাক্ষ্যপ্রমানে বেরিয়ে আসে মোস্তাক হত্যার মূল ঘটনা। আর এ হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের যোগানদাতা হিসেবে প্রকাশ পায় মৎস্য প্রজেক্টের মালিকানা অংশীদার সউদী প্রবাসী নুর মোহাম্মদের নাম। এদিকে মামলার স্বাক্ষীরা জানান, নুর মোহাম্মদ দেশে এসে তাদেরকে নানভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। নুর মোহাম্মদের লোকজনও হুমকী ধমকী দিচ্ছে। বাদী পারভীন আক্তার ভয়ে মুখ খুলছেন না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ