Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

নুসরাতের পরিণতিই ফুলনের

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী থেকে : | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৯ এএম

ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাতের পরিণতিই ঘটেছে নরসিংদীর ফুলনের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দীর্ঘ ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার সকালে মারা গেছে কলেজছাত্রী ফুলন। তার মৃত্যুর খবরে নরসিংদীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছ সবাই। যে বা যারা আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
জানা গেছে, গত ১৩ জুন রাতে বীরপুর মোল্লার যোগেন্দ্র বর্মনের কন্যা নরসিংদী উদয়ন কলেজের ছাত্রী ফুলন রানী বর্মন বাড়ির পাশের একটি দোকান থেকে কেক কিনে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা তাকে মুখ চেপে ধরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এসে ফুলনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। ডাক্তাররা জানায়, আগুনের দহনে ফুলনের গায়ের কমবেশি ২২ চামড়া পুড়ে গেছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশের পত্রপত্রিকা টিভি চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োগ করেন।

নরসিংদীর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আব্দুল গাফফারের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে রায়পুরার শ্রীরামপুর থেকে ফুলনের ভাইয়ের শ্যালক সঞ্জীব রায়কে গ্রেফতার করে। পরে নরসিংদী শহর থেকে গ্রেপ্তার করে রাজু সূত্রধর নামে এক ব্যক্তিকে। রাজু সূত্রধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ফুলনের গায়ে আগুন দেয়ার কথা পুলিশের কাছে শিকার করে।

পাশাপাশি আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানায়, ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ বর্মন রাজুকে এবং আনন্দ বর্মনকে নিয়ে ফুলনের গায়ে আগুন দিয়েছে। রাজু সূত্রধরের জবানবন্দি অনুযায়ী পুলিশ ভবতোষ বর্মণ ও আনন্দ বর্মনকে গ্রেপ্তার করে। তারাও আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানায়, ফুলনের পিতা যোগেন্দ্র বর্মনের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী সুখলাল ও হীরালালের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে গত ১১ জুন বাড়িতে একটি সালিশ দরবারও হয়। সেদিন দরবারের পর যোগেন্দ্র বর্মনের স্ত্রী দুঃখ করে বলেন যে সুখলাল ও হীরালালের যন্ত্রণায় প্রয়োজন হলে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাবে।

যোগেন্দ্র›র স্ত্রীর এই কথা শুনে ভবতোষ বর্মণ সুখলাল ও হীরালালকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে ফুলনের গায় আগুন দেয়ার পরিকল্পনা করে। ফুলনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালে পোস্টমর্টেম শেষে গতকালই ফুলনের লাশ নরসিংদীর নিজ বাড়িতে নেয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ