Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

সিগারেট-বিড়িসহ সব তামাকের মূল্য বৃদ্ধি

প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রতিবেদনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিগারেটের ওপর কর আদায়ের ক্ষেত্রে সরকার সিগারেটের মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দেয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। যা বাজার অর্থনীতিতে কাম্য নয়।
তিনি বলেন, এখন সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্যই শুধু নির্ধারণ করা হবে। এবং সেটা ১৮ থেকে বৃদ্ধি করে ২৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন মন্ত্রী। এর সঙ্গে অন্য প্রস্তাব হলো, সম্পূরক শুল্ক হার ৪৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং এর ঊর্ধ্বে যে দু’টি স্তরে সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান আছে সেটি ৬১ এবং ৬৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬২ ও ৬৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিড়ির ভয়াবহতা সিগারেটের চেয়ে বেশি।
বর্তমানে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার বিড়ির বাজারজাত মূল্য হলো ৭ টাকা ৬ পয়সা আর ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের মূল্য হলো ৭ টাকা ৯৮ পয়সা। দুই ধরনের বিড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার যথাক্রমে ২৫ ও ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়াও ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার প্যাকেটের দাম হবে সাড়ে ১০ টাকা আর ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্যাকেটের দাম হবে ১২ টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিড়ি-সিগারেটের মতোই আরেকটি ভয়াবহ পণ্য জর্দা ও গুল। জর্দা ও গুলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ পণ্য দু’টির ওপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার ৬০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১০০ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করেন তিনি।
এদিকে প্রজ্ঞা ও আত্মার তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া বলেছে, বহুজাতিক তামাক কোম্পানির পক্ষে অর্থমন্ত্রী, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার তেমন প্রতিফলন নেই বাজেটে!
তারা বলেছে, দামি সিগারটে করহার প্রায় অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে আবারও রেহাই দেয়া হলো বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে। গত এক বছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এই প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী। এর ফলে এই স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা বাজেটের পর আরো কম দামে একই পরিমাণ সিগারেট কিনতে পারবে। একই সাথে এই স্তরের সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে না। অথচ ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করার কৌশল হিসেবে সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি সহজ তামাক কর কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ