Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

সড়কের ওপর গরুর হাট

যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউকে ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে আঞ্চলিক সড়ক ও প্রস্তাবিত বালিকা বিদ্যালয় মাঠের ওপর গড়ে উঠেছে ফান্দাউক গরুর হাট। প্রতি বৃহস্পতিবার জমে এই গরুর হাট।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালের দিকে ফান্দাউক গ্রামবাসীর উদ্যোগে গরুর হাটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এবং সেক্রেটারি ছিলেন মো. মুজিবুল হক।

১০-১৫ বছর পর বাজারটি গ্রামবাসীর হাতছাড়া হয়ে গেলে এর দায়িত্ব নাসিরনগর উপজেলা প্রশাসনের হাতে ন্যাস্ত হয়। বর্তমান যেই স্থানে গরুর হাট বসছে সেই জায়গাটিকে প্রস্তাবিত বালিকা বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের মাঠের জন্য নির্ধারন করা হয় এবং বিদ্যালয়ের একটি ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে।

গতকাল এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফান্দাউকের বিশিষ্ট সমাজসেবক, বাংলাদেশ ইয়োথ ফোরামের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম মুনির বলেন, বর্তমান জায়গাটি প্রস্তাবিত বালিকা বিদ্যালয়ের নামে। প্রথম দিকে বাজারের ইজারার অর্থ বালিকা বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হতো। পরবর্তীতে সরকারের অধিনে চলে যায়, এবং গরু বাজারের নামে ফান্দাউক সওদাগর পাড়ার পূর্ব পাশে জায়গা কেনা ও মাটি ভরা হলেও এখন পর্যন্ত হাটটি বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠেই হচ্ছে। এমনকি বাজার ইজারাদার কমিটি বিদ্যালয় কমিটি বা কারো কোন অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে পূর্ব দিকের কর্ণারে অস্থায়ী একটি অফিস ঘরের শ্যাড নির্মান করেছে। কিন্তু ইজারা কমিটি আয়ের কোনো অংশ প্রস্তাবিত এ বালিকা বিদ্যালয়ের তহবিলে দিচ্ছে না।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত পানিবদ্ধতা, বন্যা কিংবা সাময়িক অসুবিধায় গরুর হাট বসছে যান বাহনের ব্যস্ত সরাইল-নাসিরনগর-ফান্দাউক-রতনপুরের এই আঞ্চলিক সড়কে। যার কারণে জনসাধারণের চলাচল ও যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। যেখানে মিনিটের পথ সেখানে যান বাহনে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় দিতে হচ্ছে গরুর বাজারের এই স্থানটিকে অতিক্রম করতে। এমন কি প্রতি হাটবার ফান্দাউক বাজারে প্রবেশের পূর্ব দিকের মূল রাস্তাটিতেও তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ওপর জমজমাট গরুর হাট। গরু বাজার সরাতে ইজারাদার কমিটি ও প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। যার ফলে মূল সড়ক বন্ধ হয়ে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে তীব্র জট হচ্ছে।

এ বিষয় ফান্দাউক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম কামরুজ্জামান মামুন জানান, আমি ইউপির দায়িত্ব গ্রহনের পরপরই সড়ক ও বিদ্যালয় মাঠে গরুর বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্রামবাসী কিংবা ইজারাদার কমিটি কেউ আমাকে কিছুই স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি। নির্ধারিত স্থানে গরু বাজারটি কেন বসানো হচ্ছে না? জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি গরু বাজার ইজারার দায়িত্বে থাকা কিংবা প্রশাসনের অনিহার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

বর্তমান গরুর বাজার ইজারা কমিটি প্রায় ১৪ বছর ধরে দায়িত্বে। গতকাল এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য ফারুকুজ্জামান ফারুক জানান, বর্তমান ইজারাদার জনি দাস। বর্তমান যে স্থানে গরুর বাজারটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গরু বাজারের নামেই নির্ধারিত আছে। প্রস্তাবিত বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণ করা আছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা পূর্বে গরুর বাজারের দায়িত্বে ছিল তারা টাকা আত্মসাৎ করার জন্য গরুর বাজারের টাকায় নাম দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিল। বর্তমানে ফান্দাউক সওদাগর পাড়ার পূর্ব পাশে ১৫ বছর ধরে মাটি ভরাটকৃত গরুর বাজারের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানে কেন গরুর বাজারটি সরানো হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জায়গাটিতে প্রস্তুত না হওয়ায় সরানো হচ্ছেনা। প্রতি বৃহস্পতিবার রাস্তার ওপর গরুর বাজার বসায় যান চলাচল ও জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা হয়, আপনার এমন মনে হয়না? এর জবাবে তিনি বলেন, রাস্তা হওয়ার আগেই গরুর বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের ভারী যানগুলো এই রাস্তাটিকে ব্যবহার করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইজারাদার জনি দাস এ বিষয়ে জানান, বর্তমান গরুর হাটটি গরুর হাটের জন্য নির্ধারিত নয়। গরুর বাজারের নির্ধারিত স্থান ফান্দাউক সওদাগর পাড়ার পূর্ব পাশে ১৪/১৫ বছর আগেই সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে আমি ছোটবেলা থেকে বর্তমান জায়গাতেই গরুর বাজার দেখে আসছি। নির্ধারিত জায়গাটি হাটের জন্য প্রস্তুত নয়, তাই বর্তমান স্থানে হাট বসছে।
এমতাবস্থায় সড়ক কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও বাজার কমিটি সহজে জনসাধারণ ও যান চলাচলে যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এমনটাই এলাকাবাসীর দাবি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন