Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

গণতন্ত্রের জন্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন সমাবেশে নজরুল ইসলাম

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

গণতন্ত্রের জন্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই একসঙ্গে গেঁথে আছে। সেজন্যই সরকার তাকে মুক্তি দিতে বিলম্ব করছে। কারণ, সরকার জানে, তারা যে অপশাসন ও অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। তিনিই হচ্ছেন অন্যায়, অপশাসন ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মূল ভিত্তি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে লেবার পার্টি আয়োজিত সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এরপর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের কাছে জবাদিহিতা করবে এমন সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন দেওয়া হোক। বাজেটের নামে সাধারণ মানুষকে করের বোঝায় আটকে ফেলার চক্রান্ত বন্ধ করা হোক। সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাজেটের এমন সব প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হোক। আমরা চাই, এদেশের কৃষক শ্রমিক সাধারণ মানুষ যেন সুখে শান্তিতে জীবন ধারণ করতে পারেন।

তিনি বলেন, দিনে দুপুরে মানুষ হত্যা হয়, তার কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে না। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের রাস্তায় বসে থেকে দাবি আদায় করতে হয়। সাংবাদিকদের হত্যার বিচার হয় না। সাগর-রুনি হত্যার পরে বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু ৪৮ বছরেও গ্রেফতার হবে কিনা, তার হিসাব করতে হয়।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। দেশে একটি অস্বাভাবিক ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যাচ্ছে। গত নির্বাচনের পর দেশে একটি বিশৃঙ্খলা পরিবেশ লক্ষ্য করছি। তিনি বলেন, আপনারা বিশ্বজিৎ এর ঘটনা দেখেছেন। স¤প্রতি বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সেখানে পুলিশ প্রশাসন ছিল কিন্তু তারা কিছুই করেনি। কিছুদিন আগে সেই ছেলে ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যে সে নৌকায় আস্থা রাখেনি, তারপরেই সে খুন হল।

তিনি বলেন, খুন হওয়ার পরে প্রশাসন থেকে বলছে- খুনিরা রেহাই পাবে না। বিশ্বজিতের খুনিরা রেহাই পেয়েছে, নাটোরে হত্যাকারীদের রেহাই দিয়েছেন, বাবর হত্যাকারীদের আপনারা (সরকার) মুক্তি দিয়েছেন। এখন ফাঁসির আদেশ হলে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বলেছিলেন বিরোধীদল নির্বাচনে আসলে এরকম একপাক্ষিক নির্বাচন হতো না। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচন দেশের জঘন্যতম নির্বাচন হয়েছে। শুধু তাই নয় এই নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধকেও অপমানিত করেছে। ৩০ লাখ শহীদকে অসম্মানিত করেছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশকে কালো যুগের দিকে নিপতিত করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাতিল করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। ভালো নির্বাচন দিতে হবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে এবং কৃষক দলের সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় সংহতি সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নজরুল ইসলাম

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন