Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

নানা কৌশলে আসছে ইয়াবা-ফেনসিডিল আটকাতে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা

প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক
স্টাফ রিপোর্টার : “আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো ইয়াবা ও ফেনসিডিল। এখন নানা কলা কৌশলে ইয়াবা আসছে। মাছের পেটে, মরিচের মধ্যে, ফুলের মধ্যে করে ইয়াবা আসছে, আমাদের একার পক্ষে এটা আটকানো সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ, অভিভাবক, গণমাধ্যমসহ সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এ কথা বলেছেন। তিনি হতাশা প্রকাশ করে আরো বলেন, আমরা ধরে দেই, কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার দুই-তিন মাসের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ীরা ছাড়া পেয়ে যায়। আমরা ধরে দেই আর দুই-তিন মাসের মধ্যে জামিনে বের হয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা এটা হতাশা ও উদ্বেগের বিষয়। মাদক ব্যবসায়ীদের স্বল্প সময়ের মধ্যে কঠিন সাজার ব্যবস্থা করা না গেলে এগুলো বন্ধ হবে না। তারা আমাদের সামনে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে যাবে, এভাবে এটা বন্ধ করা যাবে না।
বিজিবি মহাপরিচালক আরো বলেন, প্রথমবারের মতো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নারী সদস্যরা যোগ দিতে যাচ্ছে। ৫ জুন ৯৭ জন নারী সদস্য দেশের সেবায় কাজ শুরু করবে।
বিজিবির প্রধান আরো বলেন, ইতিমধ্যে ১০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ জনকে কাজে যোগদান করানো হবে। জুলাই থেকে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব এলাকায় নারীরা চোরাচালানে যুক্ত হয় যেমন- টেকনাফ, বেনাপোল, সেসব জায়গায় ১৫ জন করে নারী সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হবে। বিজিবির পাঁচটি হাসপাতালেও তারা কাজ করবেন। পিলখানায়ও তারা কাজ করবেন।
গতকাল বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে বিজিবির সফলতা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
টেকনাফে ইয়াবার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত বলে বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। কারও জিম্মায় মাদকদ্রব্য না পেলে আমরা তাকে ধরতে পারি না। তিনি আরও বলেন, আপনারা যেমন জানেন, আমরাও সে রকম জানি। অনেক কিছুই জানি। এটুকু বলতে পারি, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা নেই। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েছে।
তিনি বলেন, টেকনাফ-বেনাপোলসহ যে সব এলাকায় নারী চোরাচালানি রয়েছে সেখানে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। আরও ১০০ জন নারী সদস্যকে আগামী জুলাই থেকে ট্রেনিং দেয়া হবে।
জুলাইয়ে সীমান্ত ব্যাংক আসছে উল্লেখ করে আজিজ আহমেদ বলেন, শিগগিরই আমরা জামানতের ৪০০ কোটি টাকা জমা দিব। প্রথমে আমরা ৭-১০টি ব্রাঞ্চ চালু করব। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইতে ব্যাংকটি চালু করতে পারব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি প্রধান বলেন, ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা আর গরু আনব না। ওরাও সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধ করুক।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গরু আসে, আর সব গরুই বিএসএফকে ফাঁকি দিয়ে আসে না। আমরা ভরতের রুরর দিকে তাকানো বন্ধ করলে বছরে একটা দুইটা হত্যাও হবে না।
গরুর অনুপ্রবেশের বাইরেও কিছু কারণ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অনেক সীমান্ত এলাকা আছে একটা ঘরের অর্ধেক বাংলাদেশে আর অর্ধেক ভারতে। সে সব এলাকার মানুষজন নিয়মিত দুই দেশে অবাধে যাতায়াত করে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে প্রেমঘটিত কারণে কাউকে মেরে ফেললে বা চুরি ডাকাতির ঘটনায় কাউকে পিটিয়ে সাধারণ জনগণ মেরে সীমান্তে ফেলে গেলে তা বন্ধ করা যাবে না।
তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রমজানে ভারত থেকে যে কোনো পণ্য আমদানিতে দ্রুত পণ্য ছাড়ের ব্যাপারে বিজিবি সহায়তা করছে উল্লেখ করে বিজিবি প্রধান বলেন, পণ্য আমদানিটা ভালো হলে বাজারমূল্যটা স্বাভাবিক থাকে। বাজার স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব আমাদের না, কিন্তু দ্রুত পণ্য ছাড়ের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া আছে।
ক’দিন আগে টেকনাফে আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তের অনেক জায়গা এখনও অরক্ষিত। সে সব জায়গা দিয়ে এসে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও জানি না। তদন্তের পর বলা যাবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ৯৪৫ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার চাহিদা ছিল। কিন্তু আপাতত ২৮৫ কিলোমিটার জায়গায় বেড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি আগামী অর্থবছরে এটা হবে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত দেয়ার ব্যাপারে বিজিবির কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে আজিজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর বিষয়টা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের পর স্বরাষ্ট্র থেকে নির্দেশ আসবে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা রোহিঙ্গাদের হস্তান্তর করি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবা পাচার হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইয়াবা পাচার রোধে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সীমাবদ্ধতা নাই, তবে আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কাউকে ধরলে কয়েকদিন পর আবার জামিনে বের হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদেরও ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের স্থলসীমান্তের ৫৩৯ কিলোমিটার অরক্ষিত। এ জুনের পর ১০৯ কিলোমিটার অরক্ষিত থাকবে। আশা করছি আগামী জুনের মধ্যে পুরো স্থলসীমা কাভার হয়ে যাবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ