Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই সঙ্কট নিরসনের উপায়- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০১৯, ৮:৫২ পিএম

বাংলাদেশে চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কট বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। একটা চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট বিরাজ করছে দেশে। এই সংকট নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে, যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের লড়াই করেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক কারণে যে সমস্ত নেতাকর্মীদের বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সংসদ গঠন করা। শনিবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সভা শেষে তিনি একথা বলেন।

বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ড ছাত্রদলের চনমান সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এই বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। সা¤প্রতিককালে এই ধরনের হত্যাকাÐ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসিনতার পরিচয় দিচ্ছে বলে সভা মনে করে। যেহেতু এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, ফলে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সন্ত্রাস ও অস্ত্রেরমুখে জনগণের অধিকার হরণ করেছে সেহেতু রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে প্যাকেজ কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে এবং অন্যান্য আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কবে নাগাদ আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগামী চার সাপ্তাহের মধ্যেই এই কর্মসূচিগুলো আসবে।

বয়সসীমা তুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আন্দোলনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে কি হয়েছে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এগুলোর বিষয়ে যাদের দায়িত্ব রয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। ছাত্রদলের ব্যাপারে যাদের দায়িত্ব আছে তারাই পরবর্তিতে আপনাদেরকে জানাবেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি এই ধরনের কথা প্রায়ই বলেন, এই ধরনের কথা আগেও বলেছেন। আমরা মনে করি যে, তাদের যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এসব তারই বর্হিপ্রকাশ। আমি মনে করি, এই ধরনের চিন্তা করাও রাজনৈতিক কোনো চিন্তা বলে মনে হয় না।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ