Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

রুগ্ন এফডিসিকে বাঁচাতে কর্মপরিকল্পনা

বিনোদন রিপোর্ট: | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

চলচ্চিত্র নির্মাণের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত এফডিসি’র সেই জৌলুস এখন আর নেই। এফডিসির কারিগরি সহায়তা নিয়ে যে চলচ্চিত্র নির্মিত হতো কালের বিবর্তনে তা থেমে গেছে। চলচ্চিত্র ডিজিটালাইজ হয়ে যাওয়ায় এফডিসির পুরনো যন্ত্রপাতি এখন অচল। এর আধুনিকায়নের কথা শোনা গেলেও তা হয়নি। ফলে সংস্থাটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এমনকি এতে চাকরিরত কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও ঠিকমতো দিতে পারছে না। তবে সংস্থাটিকে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রাখতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নে গত ১৭ জুন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে এফডিসির সা¤প্রতিক অর্জন, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য প্রধান অর্জনসহ বেশকিছু বিষয় তুলে ধরা হয়। এফডিসির উন্নয়নে দুটি বিষয়কে চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। প্রথমত এফডিসির অকার্যকর যন্ত্রপাতির পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কাজ অব্যহত রাখা।

দ্বিতীয়ত চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়া অর্থ সংকট কাটতে সরকার থেকে ঋণ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। এফডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এফডিসির যন্ত্রপাতি অকার্যকর। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নতুন যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এর আগে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। কেনো করা হয়নি তা এক রহস্য। তিনি বলেন, চরম অর্থ সংকটের মধ্যে এফডিসি দিন পাড় করছে। কর্মচারির বেতন দেয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এফডিসিতে এখন প্রয়োজন পাঁচ শর মতো লোকবল প্রয়োজন। রয়েছে মাত্র দুইশ’। অর্থের অভাবে লোক নিতে পারছে না সংস্থাটি। সরকার সামান্য কিছু ভর্তুকি দিচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়ম হচ্ছে, কর্পোরেশনগুলো নিজস্ব আয় দ্বারা পরিচালিত হবে। এফডিসি সে আয় করতে পারছে না। সিনেমা নির্মাণ কমে আসছে। এফডিসির মূল আয়ের উৎস সিনেমা নির্মাণ। যত সিনেমা নির্মিত হবে তত আয় হবে। তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনায় এক বছরে ৩০টি চলচ্চিত্র, ৬০টি বিজ্ঞাপন ও ২০টি নাটক/টেলিছবির শূটিংয়ে সেবা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে যথাক্রমে ৪৭টি ও ৩৬টি চলচ্চিত্র এবং ৪০টি ও ৬৫টি বিজ্ঞাপনের শূটিংয়ে সেবা প্রদান করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, নতুন কর্মপরিকল্পনায় চলচ্চিত্র সেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা কমেছে। এর কারণ হিসেবে সিনেমা নির্মাণ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন আরেক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সিনেমা নির্মাণ কমে যাচ্ছে। এখন বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরেও লাভ হবে না। আমরা চেষ্টা করছি, সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা বাড়াতে। সেজন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এফডিসির আধুনিকায়ন, ফিল্ম সিটি নির্মাণ, ইটিকেটিং প্রক্রিয়া চালু হবে শিগগিরই। এসব করতে সময় প্রয়োজন। সরকারও চাইছে সিনেমার বর্তমান পরিস্থিতি বদলে ফেলতে। এফডিসির সব সমস্যার কথা হয়ত সরকার জানেও না। জানার কথাও না। আমরা চেষ্টা করছি সেসব স¤পর্কে অবগত করে যত দ্রুত সম্ভব আমাদের নেয়া সব উদ্যোগের বাস্তবায়ন করতে। এদিকে কর্মস¤পাদন ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা হিসেবে রয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাণ সেবা অধিকতর গণমুখী করা। ঢাকার অদূরে কবিরপুরে বিশ্বের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটিকে আন্তর্জাতিক মানস¤পন্ন করে গড়ে তোলা। এফডিসিতে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স এবং ভাষানটেকে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ। সেন্ট্রাল সার্ভারের মাধ্যমে চলচ্চিত্র মুক্তি, ইটিকেটিং ব্যবস্থা চালু করা এবং সিনেমা হলসমূহ ডিজিটাল করা। যুগোপযোগী চলচ্চিত্র উৎপাদন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এফডিসি

২৮ জানুয়ারি, ২০১৯
২৬ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন