Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ফের আন্দোলনে উত্তাল হংকং

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

সরকারাবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে হংকং। সোমবার চীনের কাছে হংকং হস্তান্তর বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই রাজপথ অংশ নেয় হাজার হাজার গণতন্ত্রকামী মানুষ। একটা সময় সরকারি দফতরে ভাংচুর চালায় তারা। দেশটির আইনি পরিষদ ভবনেও ধাতব বস্তু দিয়ে গ্লাস ও দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। গণতন্ত্রপন্থী পরিষদ সদস্যরাও আন্দোলনকারীদের থামাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভবনের ভেতর অনেক দাঙ্গা পুলিশ অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীরাও কিছুক্ষণ শান্ত থেকে আবারও সামনে এগোনোর চেষ্টা করছেন।

১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছিল। সেই দিবসের ২২ বছর পূর্তিতে সোমবার আন্দোলনে নামে গণতন্ত্রকামী মানুষেরা। প্রতিবছরই এই দিনে কর্মকর্তারা সরকারি ভবনে উৎসব করেন আর রাজপথ অবস্থান নেয় গণতন্ত্রকামী মানুষ।

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। গত মাসেই চীনপন্থী এক বিল নিয়েও উত্তাল হয়ে উঠেছিলো হংকং। মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে হংকংজুড়ে এই গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।
হংকং কনভেশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে এই দিবসটি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিলো। অন্যদিকে শত শত তরুণ কালো পোশাকে মুখোশ পরে আন্দোলনে নামে। মাথায় ছিলো কালো টুপি। তাদের দমনে হেলমেট ও ঢাল নিয়ে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় দাঙ্গা পুলিশ। বৃষ্টিও পড়ছিলো তখন। তারপরও আন্দোলনকারীরা দমে যাননি। ‘এই শয়তানের আইন বাতিল করো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এক আন্দোলনকরী জানান, তাদের ওপর মরিচের গুড়া স্প্রে করা হয়েছিলো। তার ঝাঁঝে কাতরাচ্ছিলো অনেকে। তিনি বলেন, আমরা ভাগ্যবান যে পুলিশ লাঠি চালালেও আমরা আহত হইনি। নিজেদের ছাতা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলাম আমরা।

সাধারণত এই দিনে শহরের হারবার ফ্রন্টে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে এবার সেই অনুষ্ঠান দফতরের ভেতরে আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানান সরকারি কর্মকর্তারা। চীনের সরকারি ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ক্যারি ল্যাম বলেন, চীনের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার কারণে উপকৃত হচ্ছে হংকং। তিনি দেশটির উন্নতি ও হংকংয়র স্থিতিশীলতা কামনা করেন।

গার্ডিয়ান জানায়, হংকংয়ের চীনপন্থী নেতাদের সহায়তায় চীন দেশটির স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি কেড়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কাতেই আসলে এই আন্দোলন এমন রূপ নিয়েছে। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে হংকংয়ে এমন বেশ কয়েকটি আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু বেইজিং থেকে আলাদা হতে পারেনি।

তবে সর্বশেষ কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন রাতে অঞ্চলটির রাজপথে নামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ঢল টানা কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অঞ্চলটির সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রাখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। মাসজুড়ে সেই্ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ১২ জুন তা সহিংস হয়ে উঠে। আন্দোলকারীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। আন্দোলনাকারীরাও বিভিন্ন বস্তু ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। ব্যাপক গণআন্দোলনের তীব্রতায় বিলটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও, ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অঞ্চলটির নেতা বা প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের দাবি, হংকং যে বিশেষ স্বাধীনতা উপভোগ করে, নতুন আইনের ফলে তার কোনও ক্ষতি হবে না। তবে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আইনটির মাধ্যমে অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে বেইজিং। এর প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথের বিক্ষোভে শামিল হন। সূত্র : গার্ডয়ান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হংকং


আরও
আরও পড়ুন