Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

ভারতে সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে হত্যা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি রূপ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ভারতে একের পর এক পিটিয়ে মারার ঘটনা এবং নাগরিকদের মানবাধিকারের উপর ক্রমবর্ধমান হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার বোস্টন ও শিকাগো এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ভিকটিম ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায়বিচারের আহ্বান এবং ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানায়।
বিক্ষোভকারীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সামাবেশে ভারতীয়, দক্ষিণ এশিয়া ও আমেরিকান বংশোদ্ভূত লোকজন এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। গ্রুপটি বলে, আমরা ভারতের উদ্বিগ্ন জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগণ অরাজকতার প্রতি সরকারের উদাসীন মনোভাব, যা জংলি আইনকে উৎসাহিত করছে, তার নিন্দা করছি। দেশটিকে অরাজকতার কালো যুগে ঠেলে দেয়া থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। গ্রেটার বোস্টন এলাকার বিক্ষোভকারীরা ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের ক্যামব্রিজে হারভার্ড চত্তরে সমবেত হয়।
বিক্ষোভকারী হাতে ছিলো বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক স্লোগান লেখা পোস্টার ও ব্যানার। তারা সহিংস ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে। একটি পোস্টারে লেখা ছিলো, লিঞ্চিংয়ের জন্য রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের শাস্তি চাই। আরেক পোস্টারে উশৃঙ্খল জনতার পিটুনিতে নিহত মানুষের তালিকা তুলে ধরে বলা হয়: আখলাক, পেহলু, আফরাজুল, জুনায়েদ, তাবরেজ। তোমার নাম যুক্ত হওয়ার আগে এমন হত্যাকান্ড বন্ধ করো।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ক্যামব্রিজের বাসিন্দা জাসপাল সিং বলেন, জনগণের একটি অংশ ও ব্যক্তির অধিকারের উপর হামলা খুবই উদ্বেগের একটি বিষয় এবং এর বিরুদ্ধে সব মানুষকে সরব হওয়া উচিত। এটা সব মানুষের উপর হামলা এবং এটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি রূপ। ক্ষমতাসীন এলিটরা এই হামলার পেছনে রয়েছে। যারা খাদ্য, পানি, বাসস্থান, নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার সমস্যা নিয়ে কথা বলছে তাদের মুখ বন্ধ করতে চায় এরা। গুটিকতক মানুষের শাসন ও লুটপাটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না।
গত সপ্তাহে উশৃঙ্খল জনতার হাতে ঝাড়খন্ডে নিহত ২৪ বছর বয়সী মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারীর স্মরণে এক বিক্ষোভকারী কবিতা পাঠ করে। ভয় ও ঘৃণা ছড়াতে হিন্দু দেবতা রামের নাম কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা ওই কবিতায় তুলে ধরা হয়। বিখ্যাত হার্ভার্ড চত্তরের ওই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, শ্রমিক, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশার লোকজন সমবেত হন। গ্রুপটি আরো জানায় যে, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৭৫টি বড় ধরনের গরু সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৭ জন প্রাণ হারায়।
ম্যাসাচুসেটস-এর বায়োটেক পেশাজীবী বিনয় বিকাশ বলেন, উশৃঙ্খল জনতার এভাবে পিটিয়ে মারা ঘটনা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি বলেন, ভারত একটি প্রাচীন সভ্যতা, ধর্মের নামে ঘৃণা ছড়িয়ে এই সমাজ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

Show all comments
  • ash ২ জুলাই, ২০১৯, ৮:৫৪ এএম says : 0
    MUSLIMS FROM INDIA SHOULD STAND UP & GET TOGETHER AGAINST HINDU TORTURING !! .................
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ