Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন

পাটপণ্যে নতুন উদ্যোক্তাদের প্লট দেবে সরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০১৯, ৫:৫৪ পিএম

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার অনেক ছোট, মাত্র এক শতাংশ। পাটের স্থানীয় বাজার আরও স¤প্রসারিত করতে হবে। এজন্য বহুমুখী পাটপণ্যের নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের নরসিংদী পাটকল, বিসিক শিল্পনগরীসহ অন্যান্য স্থানে প্লট প্রদান করা হবে বলে শিল্পমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বুধবার (৩ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে করিম চেম্বারে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)-এর উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনকালে একথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, জেডিপিসি-এর নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন, ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের সত্ত¡াধিকারী রাশেদুল করিম মুন্না বক্তৃতা করেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে পাটপণ্যের বাজার স¤প্রসারণে শুধু নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে নয়, পাটপণ্যের মেলা বছর জুড়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে আয়োজন করতে হবে। সেই সঙ্গে ঢাকার বাইরে সকল জেলাতেও নিয়মিত মেলার আয়োজন করতে হবে। পাটপণ্যের মূল্য যাতে সাধারণ জনগণের সাধ্যের মধ্যে থাকে সে বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি শিল্পমন্ত্রী আহবান জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তাব নিয়ে প্রতিদিন আসছেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাগণেরও বিনিয়োগের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে, নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার হার প্রশংসনীয়। সরকার চায় আরও অধিক সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুক। এজন্য তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

শ্রমিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কর্মহীন করা হবেনা। তারা রাস্তায় বের হয়ে জনগণের ভোগান্তির কারণ হবেন না। তারা নিজেদের ও জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বহুমুখী পাটপণ্যের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। এদেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে পাটপণ্য পৌঁছে দিতে হবে। ভারতে উৎপাদিত পাটের ৮০ ভাগ স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের পাটপণ্যের উদ্যোক্তাদের বিদেশে রফতানির আগে দেশীয় বাজারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আর্থিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেলে বিদেশে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ক্ষতিকর পলিথিনের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন এক লক্ষ পিস পাটের তৈরি ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই পাটের ব্যাগ বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাটের শুধু আাঁশ নয়, পাটকাঠিও একটি সম্ভাবনাপূর্ণ পণ্য। পাটকাঠি থেকে কয়লা উৎপাদন করে তা বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে পাটপাতার বিশাল চাহিদার কথা উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, গতবছর আড়াই টন পাট পাতা জার্মানিতে রফতানি করা হয়েছে। এবছর পাঁচ টন পাটপাতা রফতানি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, দেশের কৃষক শ্রেণীসহ প্রায় চার কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাটের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের পাটের চেয়ে বাংলাদেশর পাটের মান উন্নত। কৃষকরা যাতে পাট উৎপাদনে উন্নত বীজ ও কৃষি প্রযুক্তি ব্যাবহার করতে পারেন সেদিকে আরও মনযোগী হবার আহবান জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

তিনি বলেন, সরকার পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরে শিল্পমন্ত্রী পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: উদ্বোধন


আরও
আরও পড়ুন