Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

অসাধু ব্যবসায়ীরা পাপী হিসেবে হাশরে উঠবে

অধ্যক্ষ ইয়াছিন মজুমদার | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

এ জগতে অর্থই সকল অনর্থের মূল, ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ নিয়ে কারবার, একটু অসৎ হলে নগদ টাকা হাতে এসে যায় এ অর্থের লোভ ত্যাগ করা অনেক কষ্টকর। তাই নবী (স.) বলেছেন- নিশ্চয় ব্যবসায়ীগণ পাপী হিসেবে কিয়ামত দিবসে উঠবে, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে ব্যবসা করেছে তারা ব্যতীত (তিরমিযী)। রমজান মাস আসে পরকালীন লাভের পাল্লা ভারী করতে। কিন্তু পরকাল বিমুখ, লোভী কিছু লোক রমজান মাসকে উপলক্ষ করে দুনিয়ার লাভের পাল্লা ভারী করার চেষ্টায় তৎপর হয়। পণ্য মজুদদারী, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি করা, খাদ্যে ভেজাল দেয়া, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি, মধ্যসত্ত্ব ভোগী তৎপরতা ইত্যাদি এ সময় বৃদ্ধি পায়। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, ক্রয় বিক্রয় তথা ব্যবসা বাণিজ্য বিষয়ে রয়েছে ইসলামী বিধান। প্রথমে ব্যবসা সংক্রান্ত পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি- আল্লাহ পাক বলেন, “তোমরা ইনসাফ মোতাবেক যথাযথ ভাবে ওজন কর এবং ওজনে কম দিও না (সূরা রহমান, আয়াত- ০৯)। আফসোস সে সকল লোকদের জন্য যারা পরিমাপে দুর্নীতি করে, যারা মানুষের নিকট থেকে মেপে নিতে যথাযথভাবে নেয়। যখন মানুষকে মেপে দেয় তখন ওজনে কারচুপি করে। তারা কি মনে করে না যে, তারা পূনরুত্থিত হবে একটি মহান (কিয়ামত) দিবসে (সূরা মুতাফ্ফেফিন, আয়াত ১-৪)। তোমরা পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না আমি তোমদেরকে ভালো অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য আশংকা করছি বেষ্টনকারী আযাবের দিনের (সূরা- হুদ, আয়াত- ৮৪)। হে জাতি তোমরা পরিমাপ ও ওজন পরিপূর্ণ ভাবে ন্যায় সংগত ভাবে কর, মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিয়ে ক্ষতি গ্রস্থ কর না, পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়ে দিও না (সূরা- হুদ, আয়াত- ৮৫)। হে ঈমানদার গণ তোমরা অন্যায় ভাবে একে অপরের সম্পদ ভক্ষণ কর না। পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসা করবে স্বার্থের জন্য নিজেকে হত্যা কর না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াবান (সূরা নিসা, আয়াত -২৯)। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করনা (সূরা- বাকারা, আয়াত- ৭২)। নবী (স.) এর অসংখ্য হাদিসে ক্রয় বিক্রয়ের নীতিমালা বর্ণিত রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরলাম- হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একবার নবী (স.) বিক্রির জন্য রাখা এক স্তুপ (খেজুর) খাদ্যের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যে গুলো সুন্দর ভাবে সাজানো ছিল। নবী (স.) এর ভিতর হাত প্রবেশ করিয়ে দেখলেন ভেতরের গুলো ভিজা। নবী (স.) বিক্রেতাকে বললেন এরুপ কেন হল? বিক্রেতা বলল বৃষ্টি হয়েছিল তাই। তিনি বললেন- ভেজাগুলো উপরে রাখলেনা কেন? যেন মানুষ তা দেখতে পারে। যে ধোকা দেয় সে আমার উন্মত নয় (মুসলিম)। নবী (স.) বলেন- যে কোন ত্রুটি যুক্ত দ্রব্য ক্রেতার নিকট ত্রুটির বিষয়টি বর্ণনা না করে বিক্রি করবে সে আল্লাহর ক্রোধে নিমর্জিত থাকে। ফিরিস্তাগণ তার উপর লালন করতে থাকে (ইবনু মাজাহ)। নবী (স.) বলেন- তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র (ক্ষমা) করবেন না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, আবু যর (রা.) বললেন- সে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রেণী কারা? নবী (স.) বললেন- টাখনুর নিছে কাপড় পরিধানকারী পুরুষ, উপকার করে খোটা দানকারী, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রয়কারী (মুসলিম)। নবী (স.) বলেন- তোমরা মিথ্যা শপথের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হতে বিরত থাক কেননা তাতে বিক্রি (লাভ) বেশি হলেও তা বিনষ্ট হয় (মুসলিম)। আবু বকর (রা.) হতে বর্ণিত নবী (স.) গ্রামের লোকের পণ্য (তাদেরকে সরাসরি বিক্রির সুযোগ না দিয়ে) শহরে লোক কিনে (বিক্রি) করতে নিষেধ করেছেন (মুসলিম)। (এ হিসেবে শহরের বাহির থেকে কেহ মাল নিয়ে এলে বাধ্যতামূলক আড়তে উঠানো ঠিক নয়, কেননা আড়তে একবার দাম উঠবে, বেপারীরা নিয়ে আবার দাম উঠাবে এতে মূল্য বৃদ্ধি হয়, তাই গ্রামের লোকের ইচ্ছাধীন সে হয়ত খুচরা বাজারে বিক্রি করবে, ইচ্ছে করলে আড়তে বিক্রি করবে)। নবী (স.) বলেন- পাপী ব্যতিত আর কেহ (মূল্য বৃদ্ধির জন্য) মজুদদারী ব্যবসা করে না (মুসলিম)। নবী (স.) বলেন- তোমরা ওজনে কম দিও না। যখন ওজনে কম দেয়ার প্রচলন হবে তখন দুর্ভিক্ষ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও নির্যাতন বৃদ্ধি পাবে (ইবনে মাজাহ)। নবী (স.) বলেন- যারা (মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে) খাদ্য মজুদ করবে দারিদ্র ও শে^ত রোগ তাদের মধ্যে চাপিয়ে দেওয়া হবে (ইবনে মাজাহ)। অপর বর্ণনায় আছে তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের শলাকার মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে। (চলবে)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন