Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন অফিস সহকারী

নুসরাত হত্যা মামলা

ফেনী জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গতকাল মাদরাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিনকে জেরা করেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে হাজির করা হয় নুরুল আমিনকে। এর আগে গত ২ জুলাই আদালত বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস সহকারীর সাক্ষ্য নিয়ে শুনানী মুলতবি করেন। অবশিষ্ট সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন বিচারক। বিচারিক আদালতের সরকারী কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শাহজাহান সাজু বলেন, নুরুল আমিন সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতকে বলেন, প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে ২৭ মার্চ সকালে নুসরাতকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে যেতে বলেছিলাম। তিনি সে সময় ক্লাসে বসে সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। নুসরাত তার বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। প্রিন্সিপাল সিরাজ নিশাত ও ফূর্তিকে কক্ষের বাইরে বের করে দেন। এর কয়েক মিনিট পর প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখি। পরে দেখি নুসরাতকে সঙ্গে নিয়ে তার মা, ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ও স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াসিন প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। এ সময় প্রিন্সিপাল সিরাজ উল্টো তাকে গালমন্দ করেন এবং নুসরাতের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রিন্সিপাল পুলিশকে ফোন করেন। পরে পুলিশ মাদরাসায় যায়। এর আগে একই আদালতে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে জেরা করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ও ৩০ জুন নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যে দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ১ জুলাই নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত ২৯ মে আদালতে পিবিআই ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানী শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ