Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

অবশেষে সেমিতে ইংল্যান্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:৩২ এএম

একেকটি বিশ্বকাপ আসে আর এক বুক হাহাকার নিয়ে শেষ হয় ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা। যাদের হাত ধরে ক্রিকেটের জন্ম সেই দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরে থাক সর্বশেষ সেমিফাইনালেই খেলেছে ২৬ বছর আগে, ১৯৯২ সালে। দেশটির শিরোপার হতাশা ঘোঁচাতে এবার প্রত্যয়ী ইয়ান মরগানের দল। সেই লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আসরের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপ স্বাগতিকরা।

লিগ পর্বে দুই দলেরই এটি ছিল শেষ ম্যাচ। দুই দলের সামনেই সুযোগ ছিল জয় দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার। এজন্য নিউজিল্যান্ডকে পেরুতে হতো ৩০৬ রানের লক্ষ্য। কিন্তু চেস্টার-লি স্ট্রিটের রিভারসাইড স্টেডিয়ামে গতকাল তারা ৫ ওভার বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৮৬ রানে।

হারলেও নিউজিল্যান্ডের সেমি-ফাইনালও এক প্রকার নিশ্চিত। তাদের অপেক্ষায় রেখেছে শুক্রবার লর্ডসে হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি। পাকিস্তানের শেষ চারে জায়গা পেতে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ৩১৬ রানে হারাতে হবে। তার মানে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে যদি ৪০০ রান করে তবে বাংলাদেশকে অল আউট করতে হবে ৮৪ রানে। খাতা কলমে ছাড়া বাস্তবে যা প্রায় অসম্ভব। সেই হিসাবে বলা যেতেই পারে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের পর চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে খেলছে নিউজিল্যান্ডই।

জেসন রয় আর বেয়ারস্টোর আসরের তৃতীয় সেঞ্চুরি জুটির উপর দাড়িয়ে বিশাল সংগ্রহের আভাস দিচ্ছিল ইংল্যান্ড। শেষ ২০ ওভারে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যেই রাখেন বোলাররা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। পুরো কিউই ইনিংসে ব্যক্তিগত ফিফটি মাত্র একটি। নেই আর কোনো ত্রিশোর্ধো ইনিংস।

১৬ রানে দুই ওপেনারকে হারানো কিউইরা ৬৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। থিতু হয়ে ফেরেন দুই ব্যাটিং স্তম্ভ কেন উইলিয়ামসন (২৭) ও রস টেইলর (২৮)। দুজনেই হন রান আউটের শিকার। এরপর নিশাম-লাথামের ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৪ রানের জুটি পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। সর্বোচ্চ ৫৭ রান আসে লাথামের ব্যাট থেকে। বল হাতে প্রায় প্রত্যেক ইংলিশ বোলারই এদিন ছিলেন সফল। ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দিনের সেরা বোলার মার্ক উড।

এর আগে এদিনও ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখায় ফেভারিটের তকমা নিয়ে আসর শুরু করা ইংল্যান্ড। গত বিশ্বকাপে যে দলকে ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড সেই ইংল্যান্ডই গতকাল টস জিতে এই রান তোলে ওপেনিং জুটিতে। সেটাও মাত্র ১৯ ওভারে। দারুণ খেলতে থাকা রয়ের (৬০) বিদায়ে জুটি বিচ্ছিন্ন হলেও বেয়ারস্টোর সঙ্গে রানের গতি ধরে রাখেন জো রুট। ৩০ ওভারেই স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ১৯৪ রান। এরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কিউই বোলাররা। শেষ ২০ ওভারে তারা মাত্র ১১১ রানের বিনিময়ে তুলে নেয় ইংল্যান্ডের ৭ উইকেট।

টানা দুই ওভারে ফেরেন রুট ও বেয়ারস্টো। রুট (২৪) আউট হন আসরের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ঠিক ৫০০ রান সংগ্রহ করার পরপরই। বেয়ারস্টো হেনরি নিকোলসের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৯৯ বলে ১৫ চার ও ১ ছয়ে করেন ১০৬ রান। বিশ্বকাপে এটি তার টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি।

এমন ভীতের উপর দাঁড়িয়ে উইকেটে থিতু হয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারেননি জস বাটলার (১১) ও বেন স্টোকস। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্টোকস এদিন ২৭ বলে করেন ১১ রান। এসময় মিডিল অর্ডার আগলে রাখা ইয়ন মরগানের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৫ চারে ৪২ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৩০৫ রান তোলে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের তিন বোলার ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও জেমস নিশাম প্রত্যেকেই নেন ২টি করে উইকেট।

ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩০৫/৮ (রয় ৬০, বেয়ারস্টো ১০৬, রুট ২৪, বাটলার ১১, মরগান ৪২, স্টোকস ১১, ওকস ৪, প্লানকেট ১৫*, রশিদ ১৬, আর্চার ১*; স্যান্টনার ১০-০-৬৫-১, বোল্ট ১০-০-৫৬-২, সাউদি ৯-০-৭০-১, হেনরি ১০-০-৫৪-২, ডি গ্র্যান্ডহোম ১-০-১১-০, নিশাম ১০-১-৪১-২)।

নিউজিল্যান্ড : ৪৫ ওভারে ১৮৬ (গাপটিল ৮, নিকোলস ০, উইলিয়ামসন ২৭, টেইলর ২৮, লাথাম ৫৭, নিশাম ১৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩, স্যান্টনার ১২, সাউদি ৭*, হেনরি ৭, বোল্ট ৪; ওকস ৮-০-৪৪-১, আর্চার ৭-১-১৭-১, প্লানকেট ৮-০-২৮-১, উড ৯-০-৩৪-৩, রুট ৩-০-১৫-০, রশিদ ৫-০-৩০-১, স্টোকস ৫-০-১০-১)।

ফল : ইংল্যান্ড ১১৯ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : জনি বেয়ারস্টো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্বকাপ ক্রিকেট

১৬ জুলাই, ২০১৯
১৫ জুলাই, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন