Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইয়াবায় স্ত্রীসহ রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরা

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

কাঁঠালের ভেতরে করে অভিনব পন্থায় ইয়াবা পাচারের সময় স্ত্রীসহ রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‌্যাব-৪। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- বাবুল খন্দকার (৫২) ও শিউলি বেগম (৩৯)। তাদের তল্লাশি করে তাদের বহনকৃত কাঁঠাল ভেঙে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) মেজর কাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবাসহ রেলওয়ে পুলিশের টিএসআই বাবলু খন্দকার ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তারা অভিনব পন্থায় কাঁঠালের ভেতরে করে ১০ হাজার পিস ইয়াবার চালান বহন করছিলেন। আটক বাবলু খন্দকার রেলওয়ে পুলিশে চাকরির আড়ালে ট্রেনে করে নিয়মিত ঢাকায় ইয়াবা এবং গাঁজার চালান নিয়ে আসতেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একটি মাদকের মামলা রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে গোমতি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাসে করে স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন। ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে স্ত্রীসহ বাবলুকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা কাঁঠাল ভেঙ্গে ভেতর থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।


আটক বাবলু খন্দকারের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া এলাকায় এবং শিউলি বেগমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কশবা এলাকায়। তারা রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিএনজি গাড়ি নিষিদ্ধ হচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) দিয়ে চালানো গাড়ি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সহসাই সিলিন্ডার রয়েছে এমন কোনো গাড়ি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিএনজি চালিত গাড়িগুলোর সিলিন্ডার খুলে ফেলা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে সিএনজি চালিত কোন গাড়ি থাকছে না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যে পার্কিংয়ে রাখা হয় এর আশেপাশে সিএনজি সিলিন্ডার রয়েছে এমন গাড়ি না রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এদিকে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ দ‚ষণ থেকে বাঁচতে দেশের গণপরিবহনে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ব্যবহার শুরু হয় প্রায় দুই দশক আগে।

তবে সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণায়ও পরিবর্তন এসেছে। সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো অনাকাঙিক্ষত ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি এই সাশ্রয়ী জ্বালানিও আমদানি করতে হচ্ছে এখন। ফলে সরকার আপাতত গাড়িতে সিএনজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দ‚ষণের কথা চিন্তা করলে গাড়িতে সিএনজি ব্যবহার করাই উচিত। তবে তা করতে হবে গাড়িতে সিলিন্ডারের মান ঠিক রাখাসহ অন্য সব বিষয় নিয়ন্ত্রণে রেখে। যা অনেক ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডের পর সিএনজি সিলিন্ডার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিএনজির বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি অথবা হাইব্রিড গাড়ির কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০০০ সালে সিএনজির ব্যবহার শুরুর সময়ে সাড়ে সাত টাকা করে গ্রাহক গ্যাস কিনতো। এখন যার দর ৪৩ টাকা। গত ১ লা জুলাই থেকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সময় গ্রাহক পর্যায়ে এই দর নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর বিপরীতে বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৬০ টাকা, অকটেন ১০০ টাকা এবং পেট্রোল ৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই সিএনজি ব্যবহারে একটি গাড়ির ব্যয় সাশ্রয় হয় ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশের মতো।

অর্থাৎ ১০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহারে একটি গাড়ি যে দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে সেই দূরত্ব অতিক্রমে ৬৭ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকার সিএনজি প্রয়োজন হয়। তবে এর সঙ্গে সব থেকে বড় পাওয়া হচ্ছে পরিবেশের সুরক্ষা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবহণ বিভাগের এক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, সিএনজি সিলিন্ডার অবশ্যই বিপজ্জনক। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় যা করা হচ্ছে এটা অবশ্যই যৌক্তিক। সিএনজি সিলিন্ডারকে তদারকির আওতায় আনতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ