Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

শত কিলোমিটার উপকূলে রেণু পোনা নিধন জেলেরা মানছে না নিষেধাজ্ঞা কর্তৃপক্ষ নীরব

প্রকাশের সময় : ৪ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আমিনুল হক, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে

বঙ্গোপসাগরের মীরসরাই-সীতাকুন্ড উপকূল থেকে শুরু করে ফেনী ও মুহুরী নদীর মোহনা তথা মুহুরী প্রকল্প পর্যন্ত শত কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল থেকে অবৈধভাবে সরকারি নিষেধ অমান্য করে মৌসুমে প্রায় শত কোটি টাকার গলদা চিংড়ির রেণু পোনাসহ বিভিন্ন বড় মাছের পোনা শিকার করছে অসাধু জেলারা। প্রশাসন কখনো নামে মাত্র অভিযান চালালে ও কার্যত সবই যেন শুভঙ্করের ফাঁকি বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। নিষিদ্ধ হলেও বছরের বৈশাখ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত এ তিন মাস পর্যন্ত মুহুরী ও ফেনী পাড়সহ মীরসরাই উপজেলার উপকূলজুড়ে শত শত জেলে চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করে। ফলে এসময় চিংড়ি রেণুর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পোনাও নষ্ট হচ্ছে। জেলেদের সংগ্রহ করা পোনা কেনার জন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে এই মৌসুমের ব্যবসায়ীরা ও এখানকার পোনা আহরণকারীদের সাথে লেনদেনের মাধ্যমে আয়ত্ব করে পোনা আহরণ করে নেয়। কিন্তু এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে গলদা ও ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। মহাজনের দাদনের জালে বন্দি জেলেরা সব বাধা-নিষেধ অমান্য করে রেণু আহরণ করছে। ফলে দিন দিন মীরসরাইয়ের উপকূলীয় নদীর মোহনা এলাকায় ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে। মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রসাশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় অবাথে চিংড়ির রেণু শিকার অব্যাহত থাকলেও কোনো অভিযান না থাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি ও আহরণ করছে জেলেরা এ পোনা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিবছর সাহেরখালী, মঘাদিয়া, বগাচতর, ইছাখালীর উপকূলীয় এলাকার বৈশাখ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত চলে মৎস্য চিংড়ি রেণু আহরণের উৎসব চলে। প্রতিদিন এই ফেনী ও মুহুরী নদীর মোহনা পাড়ে শত শত জেলে মশারী, নেট জাল, ছাকনী ও চাদর দিয়ে পানি ছেঁকে এ পোনা শিকার করে। অবাধে এ পোনা নিধন চললেও প্রশাসন কখনো কখনো নামে মাত্র অভিযান চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায় এ মৌসুমে চিংড়ির পোনার ওপর এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয় নিয়মিত। এই পোনা সংগ্রহ করার জন্য দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ও এখানে আসেন। জেলেরা নদীতে গলদার পোনা ধরে এসব পাইকারদের কাছে সাড়ে তিন থেকে চার টাকা বিক্রি করে। তারা ড্রাম ও বড় পাতিল ভর্তি করে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটেসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আড়ৎদারের কাছে প্রতিটি পোনা বিক্রি করে ৫ টাকা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদী থেকে চিংড়ির রেণু পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একশ্রেণীর অসাধু জেলেরা এ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে রেণু পোনাসহ বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। আবারো আমরা পোনা নিধন প্রতিরোধে এখানকার উপকূলে অভিযান পরিচালনা করবো শ্রীঘ্রই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শত কিলোমিটার উপকূলে রেণু পোনা নিধন জেলেরা মানছে না নিষেধাজ্ঞা কর্তৃপক্ষ নীরব
আরও পড়ুন