Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ক্ষোভ এলাকাবাসীর, নষ্ট হবে পরিবেশ

বোয়ালিয়াক‚লে ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগ

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) থেকে মো. সালাউদ্দিন | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৮ এএম

সীতাকুন্ডে বাঁশবাড়ীয়া বোয়ালিয়াকূল এলাকায় শিপইয়ার্ড নির্মাণে উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এতে উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ধংস হবে এবং হুমকির মুখে পড়বে প্রায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নব নির্মিত সুদীর্ঘ জীবনরক্ষা বেড়িবাঁধও। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুন্ড উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাগর উপকূলীয় বোয়ালীয়া মৌজার জে.এল নং ৪০ এ বসবাসকারী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে বসবাস করে আসছে তারা। গত দুই দশক ধরে ভাঙা পড়েছিলো এই গ্রামের রক্ষাকবচ উপকূলীয় বেড়িবাঁধও। এছাড়া নির্বিচারে উপকূলীয় বৃক্ষ নিধনে অসহায় হয়ে পড়ে এই মানুষগুলো আতংকে রাত যাপন করছিলেন। তবে তাদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে সরকার সম্প্রতি ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ করেছে। এতে এলাকার মানুষ যখন একটু স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলতে শুরু করেছে ঠিক তেমনি সময়ে এই গ্রামের সাগর উপকূলকে জাহাজ ভাঙা শিল্পের জন্য বরাদ্দ দেবার প্রক্রিয়ার একটি খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। কারণ এখানে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড হলে একদিকে সবুজ বেস্টনী উজাড় হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে, অন্যদিকে আবারো চরম হুমকির মুখে পড়বে বাঁধটি। এলাকাবাসীরা জানান, ৬০ এর দশকে সীতাকুÐর ফৌজদারহাট সাগর উপকূলে প্রথম জাহাজ ভাঙা শিল্প গোড়াপত্তনের পর গত অর্ধ শতাব্দীতে তা কুমিরা বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আকিলপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কি.মি. এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ঠিক পরের অংশ বাঁশবাড়ীয়ার বোয়ালিয়া মৌজার অন্তর্গত। এই অংশে প্রচুর উপকূলীয় গাছপালা ও বেশ কিছু বাড়ি ঘর রয়েছে। কিন্তু গত দুই দশক বেড়িবাঁধটি ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে থাকায় জানমাল হুমকিতে পড়েছিলো। ফলে সরকার প্রায় ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে জানমাল রক্ষায় সোয়া দুই কি.মি. দীর্ঘ বাঁধ সংস্কার করে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসলেও সম্প্রতি এই স্থানেও কিছু মহল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, বাঁশবাড়ীয়া বোয়ালিয়াকূলে একেবারে সাগরের কাছেই অনেকগুলো বসতি রয়েছে। এখানে অনেক উপকূলীয় গাছপালাও আছে। যা স্থানীয় মানুষকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করছে। বেড়িবাঁধটি দীর্ঘকাল ভেঙে বিলীন হয়েছিলো এতোদিন। শুধুমাত্র এলাকার মানুষকে রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আমরা বারবার বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। মাননীয় সাংসদ আলহাজ দিদারুল আলম পানি সম্পদ মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক যোগাযোগ করে ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়ে আমাদের দাবি পুরণ করেন। বোয়ালিয়া মৌজার জে.এল নম্বর ৪০ এর জায়গা রক্ষায় সবাই সচেষ্ট হলেও এখন শোনা যাচ্ছে সেখানে শিপইয়ার্ড করতে চান কেউ কেউ। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সবাই উদ্বিগ্ন। আর এ অবস্থা হলে অনেকেই তাদের বসত ভিটা হারাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে উপকূলীয় সবুজ বেস্টনীর। এখানে প্রভৃতি গাছ আছে তা প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এখন যদি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড হয় তবে পুরো পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি পড়ে চরম হুমকিতে পড়বে জানমালও। তিনি আরো বলেন, সীতাকুÐের উত্তর সোনাইছড়ি মৌজা পর্যন্ত শিপব্রেকিং জোন ঘোষিত আছে। এরপর থেকে বোয়ালিয়া মৌজা। এই মৌজায় শিপব্রেকিং ইয়ার্ড করার কোন সুযোগ নেই। বোয়ালিয়াকুলের বাসিন্দা রাকিব ও মো. আরিফ হোসেন বলেন এখানে যেন শিপব্রেকিং ইয়ার্ড না হয় সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুÐের প্রবীন শিপব্রেকার্স বাংলাদেশ শিপব্রেকিং এন্ড শিপ রি-সাইক্লিং এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার সলিমপুর থেকে কুমিরা পর্যন্ত আমাদের শিপব্রেকিং জোন। বাঁশবাড়িয়ার কোন অংশ এই জোনের অন্তর্গত বলে আমার জানা নেই। যেখানে শিপব্রেকিং জোন নয় সেখানে শিপইয়ার্ডও হবার কথা না। কেউ করতে চাইলেও তা সম্ভব না।
সীতাকুÐের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মো. মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের বলেন উত্তর সলিমপুর থেকে উত্তর সোনাইছড়ি মৌজা পর্যন্ত শিপব্রেকিং ইয়ার্ড স্থাপনের জোন রয়েছে। এর পরে শিপব্রেকিং জোন করার সুযোগ কাগজে কলমে নেই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ


আরও
আরও পড়ুন