Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ঘরবাড়ি জ্বালানোর পর নির্মূল অভিযান চালায় সেনাবাহিনী

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাথেডং টাউনশিপের গ্রামবাসীদের অভিযোগ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাথেডং টাউনশিপের একটি গ্রামের অধিবাসীরা শুক্রবার অভিযোগ করেছে যে, আরাকান আর্মির (এএ) সাথে লড়াইয়ের পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা জানায়, আমিয়েত তাউড় ভিলেজরাউন্ড এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির লড়াই হয়। এর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী স্থানীয় গ্রামগুলোতে নির্মূল অভিযান চালায়। এ অভিযানের সময় সেনারা আমিয়েত তাউং এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং বয়স্ক ছাড়া বাকি অধিবাসীদের সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। এ এলাকার ১০০টি বাড়িতে প্রায় নয় শতাধিক মানুষ বাস করতো বলে অধিবাসীরা জানিয়েছে। মিয়ানমার সরকার উত্তর রাখাইনের ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ করার ১৫ দিন পর আমিয়েত তাউং গ্রামে এই ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিলো। আমিয়েত তাউং এলাকার অধিবাসী অং কিয়াউ থিন বলেন, “গ্রাম থেকে ছয় ফার্লং (০.৭৫ মাইল) দূরে পাহাড়ি এলাকায় লড়াই হয়েছে। ভারি ও হালকা উভয় ধরনের অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শুনেছি আমি। আধা ঘন্টা ধরে এই গোলাগুলি হয়েছে”। তিনি আরএফএ’র মিয়ানমার সার্ভিসকে বলেন, “এরপর তারা (সেনাবাহিনী) গোলাগুলি বন্ধ করে গ্রামে প্রবেশ করে এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিকের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়”। অপর এক খবরে বলা হয়, উত্তর রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে তীব্র লড়াই চালানোর পাশাপাশি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুরোপুরি সুসজ্জিত কলামগুলো রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে কিয়াকফিউ স্পেশাল ইকনমিক জোন (এসইজেড) এলাকায় শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানকার দানিয়াবতী আঞ্চলিক নৌ কমান্ডের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আশপাশের ধান ক্ষেতে কাজ না করতে গ্রামবাসীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে গ্রাম কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিয়াকফিউ’র কেন্দ্র¯ল থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত দানিয়াবতী নৌ ঘাঁটিকে ঘিরে আছে সিত তাও ও থিত পোকে তাউং গ্রাম। এসইজেড এলাকায় নৌবাহিনীর কমান্ড উপস্তিত থাকার পরও ৫৪৩ ও ৫৪২ লাইট ইনফেনট্রি ব্যাটালিয়নের সেনারা জুনের শেষ দিক থেকে ওই অঞ্চলে টহল দিতে শুরু করে। নৌ কমান্ড থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাও গ্রামের এক অধিবাসী ইরাবতীকে জানান যে ২৭ জুন সেনারা এই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একজন গ্রামবাসী মোবাইলে সেই ছবি তোলে। সেনারা এটা দেখে ফেললে তারা গ্রামবাসীর দিকে গুলি চালানো শুরু করে। এর দুইদিন পর ২৯ জুন দানিয়াবতী নৌ কমান্ড থেকে গ্রাম প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে নৌঘাঁটিতে তলব করা হয় এবং সেনাসদস্যদের ছবি না তোলার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী রাউক চাউং গ্রাম প্রশাসনের কর্মকর্তা উ মং চান নু ইরাবতীকে বলেন, ১০টি গ্রামের কর্মকর্তাকে ডেকে বলে দেয়া হয়েছে কেউ যেন আশেপাশের মাঠে ধান চাষ করতে না যায় এবং গ্রামে কোন নতুন মুখ দেখা গেলে নৌবাহিনীকে জানায়। কোন কোন গ্রাম কর্মকর্তা ধান চাষের অনুমতি চাইলে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে সিত্তুয়ে নৌবাহিনীর জাহাজের উপর গুলি বর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে পরিস্তিতি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। শহরের বাইরে একটি ধান ক্ষেতে লুকিয়ে থাকা বিদ্রোহীরা নৌযানের দিকে গুলি চালালে দুইজন জুনিয়র অফিসার নিহত হয়। নৌবাহিনী গ্রামবাসীকে সতর্ক করে বলে এ ধরনের ঘটনা আবারো ঘটলে তাদেরকে সমস্যায় পড়তে হবে। ইরাবতি, এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ