Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

‘গোলাগুলিতে’ নিহত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি

ফতুল্লায় রিমান্ডে প্রিন্সিপাল আল আমিন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নারী শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনায় মূল আসামি ‘গোলাগুলিতে’ নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ১২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানীকারীর অভিযোগে অধ্যক্ষ আল আমিনের ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর এলাকায় দশম শ্রেণির মাদরাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে কালকিনি থানা পুলিশ। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নারী শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনায় মূল আসামি ‘গোলাগুলিতে’ নিহত হয়েছেন। তার নাম আবদুন নূর (২৮)। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের শেষ প্রান্তে দেয়া পাহাড়ের কাছ থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। আবদুন নূরের বাড়ি উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নে। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, ছিনতাইসহ তিনটি মামলা আছে বলে পুলিশের দাবি। বৈরাগ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. হানিফ সকালে নূরের লাশ শনাক্ত করেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ডাকাত দলের দুই পক্ষের গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লাশ উদ্ধার করি। স্থানীয় লোকজন ওই লাশ আবদুন নূরের বলে শনাক্ত করেন। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ তার দাবি, পুলিশ লাশের পাশ থেকে তিনটি ছুরি, একটি এলজি, বুলেটের ব্যবহৃত দুটি কার্তুজ, অব্যবহৃত দুটি কার্তুজ ও তিন বোতল মদ জব্দ করে।
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা আলী আকবর বলেন (৬২) বলেন, ‘গতকাল শনিবার রাতে খুব গোলাগুলির শব্দ শুনি। কিন্তু খুব বৃষ্টি হচ্ছিল, তাই বের হতে পারিনি। সকালে দেখি পুলিশ লাশ নিয়ে যাচ্ছে।’ এর আগে গত বুধবার রাতে কারখানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। তাঁকে রাতে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আনোয়ারায় অবস্থিত কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। তার বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলায়।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানীকারী মাদরাসা অধ্যক্ষ আল আমিনকে ৫দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। র‌্যাবের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে শুনানি শেষে বিচারক ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, দুটি মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। রোববার একটি মামলার রিমান্ড শুনানি হয়েছে। অপর মামলার পরে শুনানি হবে। র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই শিক্ষক মাদরাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এরপরই গত ৪ জুলাই তাকে আটক করা হয়।’ গত শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত সকল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষে একজন অভিভাবক এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর মামলাটি দায়ের করে র‌্যাব।

মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর এলাকায় দশম শ্রেণির মাদরাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মাহাবুব শিকদার-(২২) নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে কালকিনি থানা পুলিশ। গতকাল রোববার সকালে ধর্ষককে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাহাবুব একই গ্রামের কালু শিকদারের ছেলে।ভ‚ক্তভোগীর পিতা কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, আমার মাদরাসা পড়–য়া মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষণ করে আসছে মাহাবুব। আমি লম্পট মাহাবুবের ফাঁসি চাই।



 

Show all comments
  • Bonni Rahman ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    airokom houa uchit dhorson mamlar ain
    Total Reply(0) Reply
  • Manas Saha Roky ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ
    Total Reply(0) Reply
  • Nazim Uddin ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    সকল ধর্ষককে আটকের পরিবর্তে গুলি করে মেরে ফেলুন। এতে কিছুটা হলে নিষ্পাপ শিশুদের আত্মা এবং কিশোরীদের আত্মা শান্তি পাবে! প্রতিদিন আমরা এ কি নিষ্ঠুর পৈশাচিক ঘটনা দেখছি শুনছি! এটা তো আমাদের দেশের প্রকৃত পরিচয় নয়! নাকি পরিকল্পিত ভাবে এক শ্রেনীর শিক্ষক, ইমাম, অধ্যক্ষ এবং তথাকথিত বাবা মায়ের কুলাঙ্গাররা এমন নির্মম পাশবিক হত্যা চালাচ্ছে দেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার জন্য!
    Total Reply(0) Reply
  • তানজিন সুলতানা অরা ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    এদের প্রকাশ্যে এনে লাইভ টেলিকাস্ট করে তারপর ক্রসফায়ার দেওয়া উচিত। এধরনের কিছুদিন চললে এমনে বন্ধ হয়ে যাবে। জয় বাংলা ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    Total Reply(0) Reply
  • Shine Bhuiyan ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    ক্রসফায়ার নই দ্রুত বিচার করে জন সম্মুখে ফাসি চাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Tanbir Hosen ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কে অভিনন্দন
    Total Reply(0) Reply
  • Ariful Islam ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    ধর্ষণের বিচার আদালতে নয়, গোলাগুলিতে হওয়া উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Ripon Das ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    সমাজ থেকে আরো একজন অমানুষের বিদায়। সাধুবাদ প্রশাসনকে। হয়ত ভবিষ্যতে আরো কোন বোনের ধর্ষিত হওয়া থেকে, নির্মম নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড থেকে, আরো কোন পরিবার বোবাকান্না থেকে মুক্তি পেল।
    Total Reply(0) Reply
  • Al-amin Hossain ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    ধন্যবাদ। বন্ধুকযুদ্ধ অব্যাহত থাকুক আনটিল স্টপ রেপিং।
    Total Reply(0) Reply
  • Sakib Ashrafi ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    ধর্ষণ রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তড়িৎ নিশ্চিতকরণ ও তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে সরকারের বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ
    Total Reply(0) Reply
  • M S Kabir Shamim ৮ জুলাই, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    প্রতিটি ধর্ষন‌ে অভিযুক্তদের এই পরিনতি হলে অনেকাংশে ধর্ষন‌ কমে যেতো।কোন বিচার দরকার নেই..শুধু ❌
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ