Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

হজের পুরো টাকা আদায়ে গলদঘর্ম মালিকরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

অনেক গ্রুপ লিডার ও কোনো কোনো হজযাত্রী এখনো হজ প্যাকেজের পুরো টাকা পরিশোধ করছে না। হজ প্যাকেজের পুরো টাকা আদায় করতে গলদঘর্ম হচ্ছেন বহু হজ এজেন্সির মালিক। হজযাত্রীদের কাছ থেকে হজের টাকা আদায় করেও এজেন্সিগুলোতে জমা দিচ্ছে না অনেক গ্রুপ লিডার। এতে হজ ফ্লাইট নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন এজেন্সির মালিকরা। এছাড়া হজ প্যাকেজের চেয়ে কম টাকায় হজযাত্রী নিয়ে বেশকিছু হজ এজেন্সি বেকায়দায় পড়েছে। হজের টাকা আদায় না হওয়ায় এজেন্সির মালিকরা সউদী অংশে টাকা পাঠাতে না পেরে হজ ভিসাও আনতে পারছে না। ফলে তারা হজযাত্রীদের যথাসময়ে হজ ফ্লাইট দিতে পারছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাবের একাধিক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

মক্কায় যাওয়া শত শত হজযাত্রী এখনো তাদের ট্রলিব্যাগ বুঝে পাননি। নির্ধারিত বাড়িতে ট্রলিব্যাগ না পেয়ে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। মক্কা রুট টু ইনিশিয়েটিভ রেজিস্ট্রেশন সংস্থা মক্কায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ট্রলিব্যাগ পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সউদী সরকার চলতি বছর থেকে ঢাকায় হজক্যাম্পে গ্রিনল্যান্ড গ্রুপকে নিয়োগ করেছে মক্কা রুট টু ইনিশিয়েটিভ রেজিস্ট্রেশনের জন্য। কিন্ত গ্রিনল্যান্ড গ্রুপ মক্কায় একই বাড়িতে বিভিন্ন হজ এজেন্সি’র হজযাত্রীদের ট্রলিব্যাগে পৃথক পৃথক কালারের স্টিকার লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মক্কার নির্ধারিত বাড়িতে হজযাত্রীদের অনেকেরই ট্রলিব্যাগ যথাসময়ে পৌঁছেনি।

হাব মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ট্রলিব্যাগ নিয়ে কিছু ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঝামেলা থাকবে না বলেও হাব মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাবের পক্ষ থেকে হজক্যাম্পে মক্কা টু ইনিশিয়েটিভ রেজিস্ট্রেশন সংস্থায় হজযাত্রীদের ট্রলিব্যাগে স্টিকার লাগানোর বিষয়টি তদারকির জন্য প্রতিদিন দুই শিফটে ৬ জন হাবের ইসি সদস্যকে নিয়োগ করা হয়েছে।
এদিকে, হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট সর্বমোট ১৫% অনুমোদন দেয়া না হলে অনেক হজযাত্রী এবার কোটা থাকার পরেও হজে যেতে পারবে না বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল-নাসের। তিনি এক বিবৃতিতে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অবিলম্বে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সনের ন্যায় চলতি বছরেও আরো ৫% রিপ্লেসমেন্ট অনুমোদন দেয়ার জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামান করেছেন।

হাজরে আসওয়াদ ট্রাভেলসের সত্ত্বাধিকারি মাওলানা শামসুল হক জানান, তার ২২২ জন হজযাত্রীর হজ প্যাকেজের প্রায় ৭০ লাখ টাকা এখনো বাকি। দফায় দফায় তাগিদ দেয়ার পরেও ভোলার হজ গ্রুপ লিডার মাওলানা জসিম উদ্দিনের ৩১ জন হজযাত্রীর প্রায় ৩৮ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করছে না। আল-আরাফ ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরসের সত্ত্বাধিকারি প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২২৫ জন হজযাত্রীর প্যাকেজের ৩৫ লাখ টাকা এখনো বাকি। আগামী ১৭ জুলাই এসব হজযাত্রীর ফ্লাইট। কীভাবে দিব সে চিন্তায় এখন ঘুম আসে না। হলি দারুননাজাত ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯ জন হজযাত্রীর প্রায় ৮০ লাখ টাকা বাকি। এসব টাকার জন্য চরম হতাশায় ভুগছি। সেন্ট্রাল ট্রাভেলস এন্ড ট্যুসের ১৪৭ হজযাত্রীর অনেকেই হজের টাকা জমা দিতে গড়িমসি করছেন বলে এজেন্সির মালিক মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী জানান। জাবাল-ই-নূর, বাংলাদেশ এয়ার ট্রাভেলস, আল-মদিনা ট্রাভেলসও হজের বাকি টাকা আদায় করতে হিমসিম খাচ্ছে। নয়া পল্টনস্থ বক্স কার্লভাট রোডে হাবের একজন শীর্ষ নেতার হজ এজেন্সির টঙ্গীর ২৮ জন হজযাত্রীর এখনো সাড়ে ৭ লাখ টাকা বাকি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হজ

১০ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন