Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

খালেদা জিয়ার পরামর্শেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ জুলাই, ২০১৯, ৯:০১ পিএম

বেগম খালেদা জিয়ার সাথে পরামর্শ করেই বিএনপি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে পরামর্শ না করে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি তার সঙ্গে পরামর্শ করে, তার কনসার্ন নিয়ে। ২০ দল আগেই ছিলো। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি তার পরামর্শ নিয়ে, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই পরামর্শ নিয়ে। আমি এখনো মনে করি, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে যদি কোনো নেতা থাকেন, যিনি জনগণকে বুঝেন। তিনি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। সত্যিকার অর্থে তিনি জনগণের নেত্রী।

বুধবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে মরহুম রাজনীতিক সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ মানুষকে হতাশ হতে দেবেন, হতাশার কথা বলবেন না। নিশ্চয়ই আমরা দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে পারবো। আর দেশনেত্রী মুক্ত হলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, মানুষের মুক্তি দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে (ক্ষমতাসীন সরকার) পরাজিত করতে পারব। আসুন আমরা আজকে কোনো হতাশায় না পড়ে, আমরা সামনের দিকে এগুই, বুকে সাহস নিয়ে এগুই, মেধা নিয়ে এগুই, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগুই। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে আটকিয়ে রেখেছে কেনো? ঠিক সেই সময়ে যখন নির্বাচন এসে যাচ্ছে। তাকে আটকিয়ে রেখেছে, তিনি বাইরে থাকলে বানের স্রোতের মতো সব কিছু ভেসে যাবে। আজকেও তাকে বের করছে না এজন্যে যে, তিনি যদি আজকে মুক্ত হন তাহলে এদের (ক্ষমতাসীন) অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। জামিন পাওয়া তার আইনগত প্রাপ্যতা, উনি জামিন পেতে পারেন। সেই জামিন তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ তারা জানে এই নেত্রী যদি বেরিয়ে আসেন তাহলে তাদের কঠিন হবে এই অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, অটোক্রেট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা খুব কঠিন। সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা-এটা সহজ কথা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি নির্বাচনের পূর্বে আমরা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে এই দানবকে আমরা পরাজিত করি। আমরা পারিনি। তার মানে এই না যে, আমরা শেষ হয়ে গেছি, আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে গেছি, আমাদের জনগণের সমস্ত আশা-আকাক্সক্ষা ধ্বংস হয়ে গেছে। কখনোই না। আমাদেরকে অবশ্যই বিষয়গুলো চিহ্নিত করে আমরা যদি একত্রিত হতে পারি, ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে মানুষগুলোকে নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগুতে পারব।

মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শামসুল হকের সভাপতিত্বে ও আরিফুল হোসেন আরিফের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক ছাত্র নেতা কাশেম চৌধুরী, এনামুল হক শহীদ, আখতার হোসেন, নুরুল হুদা নিলু চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা আকন, ওসমান গনি ও মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন