Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দেশে মোট কত টাকা আছে?

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

 গণ মে মাস পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাই ঋণ নিয়েছেন ১০ লাখ ৯১৮ কোটি টাকা। টাকা ফেরত না দেওয়ায় খেলাপি দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রেখেছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। আবার ব্যাংকগুলোতে (এপ্রিল পর্যন্ত) গ্রাহকদের আমানত রাখা আছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। তাহলে প্রশ্ন জাগে-দেশে মোট টাকা আছে কত?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই পাঁচশ’ ও এক হাজার টাকার কাগজে নোট। বাকিগুলো ১০০ টাকা, ৫০ টাকা, ২০ টাকা ও ১০ টাকার কাগজে নোট। এছাড়া এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে পাঁচ টাকা, দুই টাকা ও এক টাকার কাগজে নোট ও ধাতব মুদ্রা। এমনকি ৫০ পয়সা, ২৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ৫ পয়সা ও ১ পয়সার মুদ্রার হিসাবও এর মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিতে এগুলো ‘মানি’। এর নাম ‘রিজার্ভ মানি’ যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই রিজার্ভ মানি বা মানি সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘মূল্যস্ফীতি’ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকেই ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন, গার্মেন্টস ব্যবসা চলছে, স্বর্ণের ব্যবসা হচ্ছে, ব্যাংক ব্যবসা চলছে। এই টাকা থেকেই সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন বোনাস হচ্ছে। দেশের সব ধরনের শিল্পকারখানা চলছে। মুদি দোকান চলছে। আমদানি-রফতানি হচ্ছে, চাল-ডাল কেনা হচ্ছে, এই টাকা থেকেই মানুষ বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে-ফিরছে, বিনোদন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক গণ মে মাস পর্যন্ত বাজারে টাকা ছেড়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকেই ১০ লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০০ টাকা কেউ ব্যাংকে জমা রাখলে ব্যাংক ওই ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা রেখে বাকি ৯০ টাকা আরেকজনের কাছে ঋণ দিচ্ছে। আবার যিনি ৯০ টাকা ঋণ নিলেন তিনিও কিছু টাকা তুলে অথবা ৯০ টাকাই অন্য ব্যাংকে রাখছেন। সেই ব্যাংক আবার আট টাকা জমা রেখে বাকি টাকা আরেকজন গ্রাহককে ঋণ দিচ্ছে। এভাবে ১০০ টাকা হাত বদল ও ব্যাংক বদলের মধ্য দিয়ে এক হাজার টাকায় পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ‘মানি’কে সাধারণত দু’ভাগে ভাগ করেছে। ‘ন্যারো মানি’ এবং ‘ব্রড মানি’। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গণ মে মাস পর্যন্ত ব্রড মানির পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ ৫১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।
সাধারণত, মানুষের কাছে যে কারেন্সি থাকে (কারেন্সি ইন সার্কুলেশন) তা-ই ‘মুদ্রা’। এই হাতের টাকা দিয়ে দৈনন্দিন খরচ করা হয়, প্রয়োজনীয় লেনদেন চলে। এর বাইরে আরও ‘মুদ্রা’ জমা থাকে ব্যাংকে। যাকে ব্যাংকাররা ‘ডিপোজিট’ বা আমানত বলে থাকেন। এটাও মুদ্রা। মুদ্রা আবার দুই ধরনের। ১০ থেকে এক হাজার টাকার নোটকে বলা হয় ব্যাংক কাগজে মুদ্রা। আর ১ পয়সা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নোট ও ধাতব মুদ্রাকে বলা হয় সরকারি মুদ্রা।

 



 

Show all comments
  • Md Belayet Hossain ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১০:০২ এএম says : 0
    একটা নতুন বিষয় জানলাম
    Total Reply(0) Reply
  • তফসির আলম ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১০:০৩ এএম says : 0
    এই নিউজটি করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply
  • মাহফুজ আহমেদ ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১০:১৩ এএম says : 0
    আমার মনে হচ্ছে দেশের এখন অর্থনৈতিক সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঋণ খেলাপি
    Total Reply(0) Reply
  • মাসুম ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১০:৩২ এএম says : 0
    এই টাকার যদি সুষ্ঠ বন্টন হতো, তাহলে কতই না ভালো হতো
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টাকা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ