Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

ক্যালরি ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ নরসিংদীর লটকন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ১৬৬ কোটি টাকা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

 প্রচুর ক্যালরি ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল লটকন। ব্যাপক চাহিদা ও অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে নরসিংদীতে দিন দিন বাড়ছে লটকনের চাষ। সেই সাথে বাড়ছে লটকন বাগানের সংখ্যা। এক সময়কার অপ্রচলিত ফল লটকন অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দেশের গÐি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি হওয়ায় নরসিংদীর লটকন চাষিরা লাভবান।
জানা যায়, প্রায় ৩২ বছর আগে প্রথম বেলাবো উপজেলার লাখপুর গ্রামে অপ্রচলিত ফল লটকনের আবাদ শুরু হয়। এরপর থেকে বেলাব ও শিবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লালমাটির এলাকায় লটকন চাষের প্রসার ঘটতে থাকে। দিন দিন মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ লটকনের চাহিদা বাড়তে থাকে বাজারে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই লটকনের চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে বেলাব ও শিবপুর উপজেলার প্রায় প্রতিটি পরিবারের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এখন লটকন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শিবপুর ও বেলাবো উপজেলার লাল রঙের উঁচু মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। নরসিংদীর লাল মাটির সবুজ পাহাড়ী এলাকায় প্রায় ১১৫ গ্রামে লটকনের ব্যাপক চাষ করা হয়। পাশাপাশি রায়পুরা উপজেলার মরজাল, বেলাব উপজেলার আমলাব, উয়ারি-বটেশ্বর, লাখপুর, শিবপুরের জয়নগর, আজগিণলা এবং মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় এর চাষ হয়। তবে শিবপুর ও বেলাব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে প্রধান কাÐগুলোতে ছড়ায় ছড়ায় ফলন হয় লটকনের। মাটি ও জাত ভেদে টক ও মিষ্টি দুই প্রকারের লটকনই এ অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। চারা লাগানোর ৩ থেকে ৫ বছর পর ফল আসা শুরু করে। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে মৌসুমে পাঁচ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
২০০৮ সাল থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয় নরসিংদীর লটকন। মৌসুমী এ ফলের বেচাকেনাকে ঘিরে জেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসছে লটকনের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এসে বাজার থেকে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে হাত বদল হয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে এসব লটকন রফতানি হচ্ছে বিদেশের বাজারেও। অনেকে সরাসরি জমি থেকে লটকন কিনে সরবরাহ করছেন দেশ-বিদেশের বাজারে।
বেলাব উপজেলার লাখপুর গ্রামের নাজমুল হক বলেন, কম খরচে লাভজনক ফসলের মধ্যে অন্যতম লটকন। এই ফলের বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি পড়লেও পরবর্তীতে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। সে তুলনায় লাভ বেশি হয়। উয়ারি গ্রামের আহসান উল্লাহ জানান, লটকন গাছে ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেয়া যায়। পাইকাররা বাগান কিনে দেশে-বিদেশের বাজারে লটকন পাঠিয়ে থাকেন। এতে তাদের বিক্রয়ের ঝামেলা থাকে না। লাভও বেশি হয়।
চলতি মৌসুমে এক হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন লকটনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। উৎপাদিত এ লটকন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর নরসিংদীর উপ-পরিচালক শোভন কুমার ধর এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিক টন ফলন হিসাবে লটকনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রফতানি হওয়ায় লটকনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
পাইকারি ৭০ টাকা কেজি দরে যার বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চাষি এবং ব্যবসায়ীদের দাবি এ অঞ্চলের লটকন চাষাবাদে সরকারি পৃষ্টপোষকতা, সরবরাহ, বাজার ব্যবস্থাপনা করলে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্যালরি
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ