Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

কাক্সিক্ষত এস-৪০০ তুরস্কে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোর বিরোধীতা সত্তে¡ও অবশেষে তুরস্কের হাতে এসে পৌঁছেছে রাশিয়ার তৈরি সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে। রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে এর প্রথম চালান। এর ফলে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রপাতির প্রথম পর্ব আঙ্কারার পাশ্ববর্তী মুরটেড বিমান ঘাঁটিতে এসেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এর আরো কয়েকটি চালান এসে পৌছবে। তারপরই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি প্রস্তুত হয়ে যাবে ব্যবহারের জন্য। খবরে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা বহু আগ থেকেই হুঁশিয়ারি করে আসছিলেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনলে উন্নত এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান আটকে দেয়া হবে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাধ্যমে এফ-৩৫ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে পারে পেন্টাগন। ভবিষ্যতের সামরিক বিমান হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে এফ-৩৫ জেটকে। ইতিহাসের সবচেয়ে দামি এই বিমানের প্রাণঘাতী হামলা ছাড়াও বৈচিত্রময় দক্ষতা রয়েছে। স্টেলথ সক্ষমতা, শব্দের চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন, প্রচÐ ক্ষিপ্রতা ও সেনসর ফিউশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বিমান। তবে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের দায়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে এস-৪০০ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাটো। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, তুরস্ক এই ব্যবস্থা সংগ্রহ করলে তাদের বাস্তবিক ও নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে। এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১২ জুলাই থেকে দীর্ঘ পাল্লার আঞ্চলিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ মুরটিড বিমানবন্দরে আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম চালানটি এসে গেছে। রুশ সামরিক-কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে তাস জানিয়েছে, এস-৪০০ এর যন্ত্রাংশ বহনকারী আরেকটি বিমান শিগগিরই উড়াল দেবে। এরপর গ্রীষ্ণের শেষ দিকে সমুদ্রপথে ১২০টি গাইডেড মিসাইলের তৃতীয় একটি বহর তুরস্কে পাঠানো হবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে সবকিছু হচ্ছে। সব ধরনের বাধ্যবাধকতাই মেনে চলা হচ্ছে। এএফপি, সিএনএন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, চারটি উপায়ে কাজ করবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি। প্রথমত, এটির দীর্ঘ-পাল্লার নজরদারি রাডার বস্তুকে খুঁজতে শনাক্ত করতে পারে। এরপর তা কমান্ড ভিহিকলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। যেটা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এস-৪০০ ব্যবস্থাটি লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে এবং কমান্ড ভিহিকল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নির্দেশ দেয়। তৃতীয়ত, উৎক্ষেপণ উপাত্ত ক্যারিয়ার রকেটে পাঠানো হলে এটি ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। চতুর্থত, লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র যেতে সহায়তা করে সংশ্লিষ্ট রাডার। সিএনএন, এএফপি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ