Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া থেকে | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। প্রায়ই প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছেন হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা ডেঙ্গুরোগী হিসেবে তাকে শনাক্ত করছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এবং সনো ডায়াগনিস্ট সেন্টোরে ৬ জন, আমিন ডায়াগনিস্ট সেন্টারে ৫ জন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু রোগের আলামত পাওয়া যায়। এই প্রথম কুষ্টিয়ায় এত ডেঙ্গু রোগী।

সরেজমিনে গতকাল জানা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছে কয়েকজন। আক্রান্ত এক রোগীর নাম ইসমাইল হোসেন (২১)। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। তাকে জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দুই নম্বর পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

একই হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ইসমাইল হোসেনের মা সালমা খাতুনকেও ভর্তি করা হয়েছে। তিনিও কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। তারও ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ভর্তি আছেন সবুর আলী (২৮), আলতাফ (২৫), মাহাতাব (৪০), লিয়াকত আলী (৪৩), রওশন আরা খাতুন (৪৫)। এছাড়াও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্তরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনার পর চিকিৎসকরা কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বহনকারী এডিস মশা আছে বলে ধারণা করছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ইসমাইল জানান, তিনি কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার এলাকায় পুরনো আলিয়া মাদরাসার ছাত্র। একই সঙ্গে বালিয়াপাড়া গ্রামের শাহি মসজিদে ইমামতি করেন। মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন তিনি। গত কয়েক মাসের মধ্যে তিনি জেলার বাইরে যাননি। বাড়িতে থাকা অবস্থায় গত নয় দিন আগে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। গ্রামের পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। জ্বরের মাত্রা বেড়ে গেলে গত রোববার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে ইসমাইলের সঙ্গে থাকা তার এক প্রতিবেশী জানান, গত সোমবার শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইসমাইলের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে চিকিৎসক তাকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করেন। ইসমাইলের মা সালমা খাতুনও গত তিন দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবির জানান, ইসমাইল যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার মায়েরও পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কুষ্টিয়ায় এডিস মশার অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় আরও পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। কিন্তু তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ায় চলে এসেছেন।
শহরের সনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার জানান, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত তাদের এখানে ১০ জন রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন। তার মধ্যে চারজন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বাকি ছয়জনের দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়নি। এদিকে জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে ডেঙ্গুজ্বরের রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার জানান, অনেকেরই রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে এর মধ্যে ৫ জনে ডেঙ্গু জ্বরের ভাইসার আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন রওশন আরা বেগম বলেন, আগে বাইরের রোগী কুষ্টিয়াতে আসতো। এখন কুষ্টিয়াতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে সকলকে মশারী ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়ার পৌরসভাগুলোতে মশক নিধনের জন্য সরকারী বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও পৌরসভাগুলো ট্যাক্সও নেন। প্রতি মাসে দুবার মশক নিধনের অভিযান চালানোর বিধান থাকলেও বছরে একবারও মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হয় না। কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী ও খোকসা পৌরসভার একই অবস্থা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ