Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

বিরোধী নারী এমপিরা নিজ দেশে ফিরে যান : ট্রাম্প

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বংশোদ্ভূত চার ডেমোক্র্যাট নারী কংগ্রেস সদস্যকে দেশ ছাড়তে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। তিনি গতকাল সোমবার ধারাবাহিক তিনটি টুইটে ওই কথা বলেছেন। এতে করে তিনি বর্ণবাদের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন। ওই কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আয়ানা প্রেসলি।

খবরে বলা হয়, নারী এমপিদের ভিনদেশি আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে বলেছেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার ধারাবাহিক তিনটি টুইটে ওই চার নারী কংগ্রেস সদস্যকে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব নারীরা আদতে এমন সব দেশ থেকে এসেছে যেদেশের সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। তাদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিৎ। ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাদের দ্রæত গমনের ব্যবস্থা করে দিলে খুশি হবে ট্রাম্প তার টুইটে সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করেনি। তবে এক সপ্তাহ আগে পেলোসির সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক একটি বিল নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয় ওই চার কংগ্রেস সদস্যদের। ট্রাম্প তাদের ভিনদেশি বললেও, এদের মধ্যে ওমার ছাড়া তিন জনের জন্মই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর ওমার শিশুকালেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে প্রবেশ করেন।

ট্রাম্প তার টুইটগুলোয় দাবি করেন, ওই নারীরা তার ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনাকারী। তিনি লিখেন, এটা আসলে খুবই কৌতুহলদ্দীপক একটি বিষয় যে, ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওমেনরা, যারা মূলত বাইরের দেশ থেকে এখানে এসেছে, যাদের সরকার পুরোপুরি বিপর্যয়ের মুখোমুখি, পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য, দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ (আদতে তাদের কার্যক্ষম কোনো সরকারই নেই), তারাই এখন উচ্চস্বরে, ভয়ঙ্করভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে বলে বেড়াচ্ছে কীভাবে দেশ চালাতে হবে।

পরবর্তীতে আরো একটি টুইটে তিনি লিখেন, তারা নিজ দেশে ফিরে যায় না কেন। সেখানে গিয়ে যা নষ্ট হয়েছে তা ঠিক করে না কেন! এরপর তারা এসে আমাদের বলুক কীভাবে সরকার চালাতে হয়।

তৃতীয় একটি টুইটে ট্রাম্প লিখেন, ওইসব জায়গায় আপনাদের জরুরিভাবে দরকার। আপনারা এর জন্য যথাযথ সময়ে রওনা দিতে পারবেন না। তবে আমি নিশ্চিত, ন্যান্সি পেলোসিকে বললে তিনি খুশিমনে আপনাদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেবেন।

ট্রাম্পের টুইটের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের টুইটের কড়া সমালোচনায় পাল্টা টুইট করেছেন পেলোসি। তিনি ট্রাম্পের টুইটকে ‘বিদেশিভীতিমূলক’ বর্ণনা করে লিখেন, চার নারী কংগ্রেসওমেনকে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলে ট্রাম্প ফের প্রমাণ করলেন যে, তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ পরিকল্পনা আদতে যুক্তরাষ্ট্রকে শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ। তিনি আরো লিখেন, আমদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি ও আমাদের একতাই আমাদের বল।

তালিব এক টুইটে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি জানিয়ে লিখেছেন, একজন আইনবিরোধী ও সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নিয়ে শুনতে চান? তিনি নিজেই একটা সঙ্কট। তার বিজ্জনক মতাদর্শই মূল সঙ্কট। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা উচিৎ।

ট্রাম্পের টুইটের জবাব দিয়েছেন মার্কিন ইতিহাসের কনিষ্ঠতম কংগ্রেস সদস্য কর্টেজও। লিখেছেন, তিনি এটা মানতে চান না যে, আমেরিকা আমাদের নির্বাচিত করেছে। তার ওপর তিনি এটাও মানতে পারেন না যে, আমরা তাকে ভয় পাই না।

ইলহান ওমার এক টুইটে লিখেছেন, ট্রাম্প জাতীয়তাবাদ উস্কে দিচ্ছেন। কেননা ওমারের মতো ব্যক্তিরা কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ও তার বিদ্বেষপূর্ণ এজেন্ডার বিরুদ্ধে লড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবেই বর্ণনা করেন ওমার।

এদিকে, প্রেজলি ট্রাম্পের প্রথম টুইটের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন, বর্ণবাদ দেখতে এরকম দেখায়। আর গণতন্ত্র দেখতে আমাদের মতো দেখায়। ট্রাম্পের টুইটের মন্তব্য করেছেন বার্নি স্যান্ডার্সসহ অন্যান্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতারাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনায় ঝড় বইয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। রিপাবলিকান সমর্থনকারী কলামিস্ট মেঘান ম্যাককেইন লিখেছেন, এটা বর্ণবাদ। আমরা এদেশে স্বাগত জানানো ব্যক্তিদের চলে যেতে বলি না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ