Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

বন্দরে জট কমছে ধীরে

পণ্যবাহী গাড়ির পাস ইস্যু জটিলতায় যানজট

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

 ধীরে কমছে চট্টগ্রাম বন্দরের জট। টানা বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র যানজটের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বহির্নোঙ্গরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। জেটি ও ইয়ার্ডে বাড়তে থাকে কন্টেইনারের পাহাড়। তবে গত কয়েকদিন আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। বহির্নোঙ্গরে অপেক্ষমান মাদার ভেসেল থেকে আমদানি পণ্য খালাস এবং লাইটার জাহাজযোগে পরিবহন পুরোদমে চলছে। বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনার পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় জট কমতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্দরে জট পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে তা কেটে যাচ্ছে। গতকাল বন্দরের বিভিন্ন জেটি ও ইয়ার্ডে ৪৩ হাজার ৬২ টিইইউএস কন্টেইনার ছিল। বন্দরের কন্টেইনার ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ৮টি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় শনিবার বন্দরে কন্টেইনারের সংখ্যা ৪৫ হাজার টিইইউএস ছাড়িয়ে যায়।

বন্দর সচিব জানান, বন্দর থেকে কন্টেইনার পরিবহন বাড়ছে। তবে বন্দরে ঘিরে যানজটের কারণে এ কার্যক্রম কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে। বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙ্গরে ১০৮টি জাহাজ রয়েছে। এরমধ্যে বহির্নোঙ্গরে প্রায় ৩৫টির মতো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও অতিবর্ষণের কারণে প্রায় আট দিন বহির্নোঙ্গরে বড় জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস ও নৌপথে পরিবহন বন্ধ থাকে। বহির্নোঙ্গরে ৪০০ লাইটারেজ জাহাজ পুরোদমে পণ্য খালাস ও পরিবহনের কাজ করছে। কর্ণফুলী নদীর ১৬টি ঘাটে এখন দারুণ ব্যস্ততা। সেখানে লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস চলছে।

পাস ইস্যু নিয়ে যানজট
চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে বিমানবন্দর সড়কের কাটগড় থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এমনিতে সড়কের অবস্থা বেহাল। তার উপর নিরাপত্তা পাস সংগ্রহ করা নিয়ে জটিলতার কারণে বন্দরের প্রবেশমুখে ভারী যানবাহনের জটলা থেকে পুরো সড়কজুড়ে তীব্র যানজট হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পণ্যবাহী গাড়ির সহকারীদের ‘পাস’ ইস্যুতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বেশকিছু কাগজপত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, চালকদের বেশিরভাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও সহকারীদের ক্ষেত্রে তা নেই। ফলে সহকারীদের পাস দেয়া যাচ্ছে না। চালকের পাস আছে অথচ সহকারী পাস নেই। এ অবস্থায় ভারী যানবাহন নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না চালকেরা। ফলে বন্দরের গেটগুলোকে ঘিরে তীব্র জটের সৃষ্টি হয়। এ জট গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত ছিল। জটের কারণে বারিক বিল্ডিং, ফকিরহাট, নিমতলা, পিসি রোড, টোল রোড, বড়পুল, কাস্টম মোড়, সল্টগোলা, ইপিজেডসহ বিমানবন্দর সড়কে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বন্দর কেন্দ্রিক পণ্যবাহী গাড়ির প্রয়োজনীয় টার্মিনাল থাকায় সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার পণ্যবাহী গাড়ি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ