Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

এশিয়ার বিশাল অংশে বন্যা নিহত দুই শতাধিক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এশিয়া দেশগুলো। দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তান, চীন ও মিয়ানমারেও। মৌসুমী বৃষ্টিতে বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৪০ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া বন্যার কারণে মারা গেছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। হিমালয় থেকে নেমে আসা ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। আসাম ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রের পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। প্রায় ২ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বন্যা ও ভ‚মিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নেপাল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৪ জন নিহত ও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিহতের অনেকেই ভ‚মিধসের কারণে ঘর-বাড়ির নিচে চাপা পড়েছিলেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশটির এক তৃতীয়াংশ জেলা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮ সালে নেপালে কসি নদীর তীর ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। এতে প্রাণ যায় কমপক্ষে ৫০০ জনের।

ভারতে সবচেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটির দারিদ্র্যপীড়িত প্রদেশ আসাম এবং বিহার। লাগাতার বৃষ্টিতে ভেসে গেছে অর্ধেক আসাম। দুই প্রদেশ মিলিয়ে প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। বিপন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। তবে এখনই পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা নেই, বরং আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবিরাম বৃষ্টি চলবে এবং তাতে পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই মুহ‚র্তে গুয়াহাটিতে নদীর পানির স্তর ২-৩ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের সাদিকুল হক।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোওয়াল বলেছেন, ‘আসামের ৩১ থেকে ৩২টি জেলায় বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছি।’
অন্যদিকে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্যায় ২৩ জন নিহত হয়েছে বলে সিবিএস নিউজে বলা হয়েছে। সেখানে ১২০টি ঘর ভেঙে পড়েছে।

চীনের সরকারি সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় জুন মাস পর্যন্ত জিয়ানজি প্রদেশে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার মানুষ। প্রদেশটির ২৯টি নদীর প্রত্যেকটি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মিয়ানমারেরও অনেক জায়গা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। দেশটির কাচিন প্রদেশে ৬ হাজার ২শ’ মানুষ দুর্যোগ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী সেখানে ২৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও কতজনের মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জাননো হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রত্যেক বছর বন্যায় ব্যাপক পরিমাণে বাস্তুচ্যুতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বর্ষার শুরুর দিকে এই ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া মারা যায় আরো কয়েক হাজার গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর। সূত্র : রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, জিনহুয়া।



 

Show all comments
  • Mohammed Kowaj Ali khan ১৭ জুলাই, ২০১৯, ৯:৩০ এএম says : 0
    বন্যার জন্য একমাত্র দায়ী দেশ ভারত। ভরতকে স্বাস্থীর আওতায় আনা হোক। ইনশাআল্লাহ। সব কিচু ঠিক হইয়া যাইবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ