Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

যারা তুরস্কে হামলা চালাতে চায়, তাদের জন্য এস-৪০০

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ এটি এবং আমরা তা চালিয়ে যাব : এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার মুখেই রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তুরস্ক। এরই মধ্যে এস-৪০০ এর যন্ত্রাংশ নিয়ে ১০টি বিমান তুরস্কে নেমেছে। কিন্তু কী কারণে তুরস্কের কাছে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এত জরুরি হয়ে ওঠেছে? সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, যারা আমাদের দেশে আক্রমণ করতে চায়, তাদের জন্যই এই এস-৪০০, যা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ হিসাবে এটি করছি এবং আমরা তা চালিয়ে যাব। ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে এস-৪০০ পুরোপুরিভাবে স্থাপনের আশা করেছেন তিনি। তুরস্ক আড়াইশ কোটি ডলার ব্যয়ে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা ছাড়াও এ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। তারা বলছেন, এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং এস-৪০০ ব্যবস্থা কাছাকাছি থাকা ঠিক না। এতে রুশ টেকনিশিয়ানদের এফ-৩৫ এর দুর্বলতা খুঁজে বের করে ফেলতে পারার আশঙ্কা আছে। তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিলে তাদেরকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বের করে দেয়াসহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরি ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে এস-৪০০। রাশিয়ার উৎপাদিত এ প্রযুক্তি পেতে আগ্রহী অনেক দেশ। মূলত দেশটির আগেরকার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে এস-৪০০ তৈরি করা হয়েছে। এস-৪০০তে সর্বাধুনিক আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দেশ দিতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় একটি যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ পোস্ট, তিনটি সমন্বয়কারী জ্যাম-প্রতিরোধী পর্যায়ক্রমিক অ্যারে রাডার, বিমানের লক্ষ্যমাত্রা শনাক্ত করা, ছয়-আটটি বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স (১২টি ট্রান্সপোর্টার-লঞ্চার, একটি বহু-কার্যকরী চার আলোকসজ্জা ও শনাক্তকরণ রাডার) যুক্ত রয়েছে। এছাড়া এটি একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা, একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন যানবাহন ও একই সঙ্গে এটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। এস ৪০০তে রয়েছে অতিরিক্ত শনাক্তকারী রাডার, টাওয়ার ও এন্টোনা পোস্ট যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়া যায়। এর লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার। যা মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে ৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি সই করেন এরদোগান। কিন্তু মার্কিন সরকার শুরু থেকেই এ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনা তুরস্কের উচিত হবে না। এ হুশিয়ারি সত্তে¡ও আঙ্কারা মস্কোর কাছ থেকে এস-৪০০ সংগ্রহ করলে তুরস্কের ওপর তিন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আনাদোলু, স্কাই নিউজ অ্যারাবিক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এরদোগান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ