Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ঐ চার রান চাননি স্টোকস!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

সুপার ওভারের নখ-কামড়ানো উত্তেজনার পর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু ফাইনাল শেষ হলেও আম্পায়ারদের এক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে বিতর্ক। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের অতি গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে ১ রানের জায়গায় দুই রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত রানটা না হলে হয়তো আজ ইংল্যান্ড নয়, চ্যাম্পিয়ন হতো নিউজিল্যান্ড। বলতে গেলে ভাগ্যের বদৌলতে বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড- কথাটা ইংলিশ অহংয়ে লাগাই স্বাভাবিক। এ কারণেই কি না, জেমস অ্যান্ডারসন দাবি করছেন, বাই থেকে আসা সেই চার রান বেন স্টোকস ফিরিয়েই দিতে চেয়েছিলেন! স্টোকস নাকি আম্পায়ারকে গিয়ে বলেওছিলেন চার রান ফিরিয়ে নিতে!

এবারের ফাইনাল ম্যাচটা অনেকের চোখেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইতিহাসের সেরা ফাইনাল। ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ড, দুই দলই স্নায়ুর দফারফা করে ছেড়েছে! ৩ বলে ৯ রান দরকার- এমন সমীকরণে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে বাউন্ডারি থেকে উড়ে আসা বল স্টোকসের ব্যাটে লেগে ছিটকে গিয়ে চার হয়ে যায়। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ৬ রান যোগ করার ইঙ্গিত দেন। যদিও ক্রিকেটের আইনে সেটি ৫ রান হয় বলে সমালোচনা হচ্ছে। আম্পায়ার ভুল কিংবা ভাগ্যের বদৌলতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতেছে, এমন কথাই চলছে।

কতক্ষণ আর এসব কথা হজম করা যায়? ইংলিশ পেসার অ্যান্ডারসন দাবি করছেন, এখানে ইংল্যান্ডের করার কিছুই ছিল না, ‘ক্রিকেটীয় ভদ্রতা হলো, স্টাম্পে থ্রো করা বল যদি আপনার কারণে দিক বদলে অন্য কোনো দিকে চলে যায়, আপনি রান নেবেন না। কিন্তু বল যদি ছিটকে গিয়ে চার হয়ে যায়, ক্রিকেটীয় আইনেই তো এটা চার, তখন আর আপনার কী করার থাকে?’

বিবিসির পডকাস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডারসন এমনও দাবি করলেন, স্টোকস নাকি নিজে থেকে সেই অতিরিক্ত চার রান ছেড়েও দিতে চেয়েছিলেন, ‘এ নিয়ে মাইকেল ভনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ম্যাচের পরে স্টোকসের সঙ্গে ভনের দেখা হয়েছিল। বেন স্টোকস আসলে আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বলেছিল, “আপনারা কি এই চার রান ফিরিয়ে নিতে পারবেন? আমরা এই চার রান চাই না।” কিন্তু এটা নিয়মের আছে। যার ফলে এমনটা হয়েছে।’

ইংল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জন্ম নেওয়া স্টোকস বল ব্যাটে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই হাত উঁচিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার ভঙ্গি করেন। মাঠে তো বটেই, সেদিন মাঠের বাইরেও কেন উইলিয়ামসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন স্টোকস। সংবাদমাধ্যমেও বলেন, আজীবন ওই চারের জন্য তিনি উইলিয়ামসনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে যাবেন। আইসিসির ধারা ১৯.৮ অনুযায়ী, ওভার থ্রোর পরে বাউন্ডারির ক্ষেত্রে ফিল্ডার বল ছাড়ার মুহূর্তে ব্যাটসম্যানরা পরস্পরকে পার করলে তবেই তাঁদের দৌড়ে নেওয়া রান যোগ হবে ওভার থ্রোর বাউন্ডারির সঙ্গে। টেলিভিশন রিপ্লেতেও স্পষ্ট দেখা যায়, গাপটিল বল ছোড়ার সময় স্টোকস ও আদিল রশিদ দ্বিতীয় রানের জন্য পরস্পরকে পার করতে পারেননি।

এতদিন এ নিয়ে কথা না বললেও চলমান এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে আইসিসি। ফক্স স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে ওভার থ্রোর বিষয়টা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ম্যাচের আম্পায়ারদের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখে না আইসিসি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিসির সেই কর্মকর্তা জানান, ‘খেলার নিয়মাবলি ও আইনকানুন মাথায় রেখে মাঠের আম্পায়াররা নিজেদের বিচক্ষণতা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। নীতির জায়গা থেকে আমরা আম্পায়ারদের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি না।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন