Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

নিরাপদ করতে হবে দেশি গরুর দুধ

আলোচনা সভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

দুধ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। গতকাল এক আলোচনা সভায় তারা বলেন, দুগ্ধজাত বিকাশমান শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বিদেশি দুধ নয়, দেশি গরুর দুধই নিরাপদ করতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, জনউদ্যোগ, বিসিএইচআরডি, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, গ্রীনফোর্স, সুবন্ধনসহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা হয়। এতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা : জনস্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. লেলিন চৌধুরী। পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয় এ আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ, ডবিøউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, জনউদ্যোগের সমন্বয়কারী তারিক হোসেন, বিসিএইচআরডির প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল হক, গ্রীনফোর্সের সমন্বয়কারী মেজবাহ্ উদ্দিন সুমন, নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি, ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন।

আলোচকরা বলেন, হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দিষ্ট করে দেয়া ল্যাবরেটরিতে সরবরাহ করবার জন্য নমুনা সংগ্রহ যেন সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে- নমুনা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হতে পারে। আর খোলা বাজার থেকে রেনডম সেম্পলিং পদ্ধতিতে নমুনা নিতে হবে। কোনো মতেই ঘোষিত পূর্বনির্ধারিত স্থান থেকে সংগৃহীত অথবা কোম্পানির সরবরাহ করা নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা চলবে না। নমুনা সংগ্রহের সময় কয়েক প্রস্থ নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। আদালত নির্ধারিত ল্যাবে এক প্রস্থ নমুনা পাঠাতে হবে। আরেক প্রস্থ নমুনা দেশের বাইরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর স্বীকৃত রেফারেন্স ল্যাবে পাঠাতে হবে। এতে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা ও আতঙ্ক দূর হবে।

আলোচকরা বলেন, দুধ একটি অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই খাদ্যটির গুরুত্ব অপরিসীম। এরকম প্রয়োজনের তাগিদেই তরল কাঁচা দুধকে পাস্তুরিত করার পর প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করার আধুনিক পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। আধুনিক যুগে পুরো ব্যাপারটাই এখন শিল্পের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়েছে। খাদ্যের সাথে জীবন ও সুস্থতার অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক। তাই বাণিজ্যিকভাবে লেনদেন হয় এমন সকল খাদ্যের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য মাননির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপি এই মান নির্ধারণের কাজটি করে থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশক সূচি অনুযায়ী প্রতিটি দেশ নিজস্ব মান তৈরি করতে পারে। অথবা সরাসরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুসরণ করতে পারে। তরল পাস্তুরিত দুধের জন্য আমাদের একটি দেশীয় মানদন্ড রয়েছে। তারা বলেন, একটি অসাধু আমদানিকৃত নিম্নমানের গুড়া দুধ দিয়ে তৈরি করছে তরল দুধ। এমনকি ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে দুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানীতে কম মূল্যে সাপ্লাই দিচ্ছে এমন প্রতিবেদন প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এই অসাধু চক্রের কারণে প্রকৃত চাষিরা বাজারের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না ফলে আর্থিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।



 

Show all comments
  • আহমেদ করিম ১৮ জুলাই, ২০১৯, ১০:৫৭ এএম says : 0
    মিল্ক ফ্রেশ এবং ওয়ান মিল্ক এ কোন প্রকার ভেজাল নাই। তাই আমাদের উচিত এই দুধ গুলার অন্নেষণ করা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুধ

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ