Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

ভারতের হয়ে পাকিস্তানে কাজ করা আলোচিত গুপ্তচরেরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৪:০২ পিএম

শুধু কুলভূষণ যাদব বা সর্বজিৎ সিং নন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতের আরো অনেক গুপ্তচরকেই বন্দি হতে হয়েছে পাকিস্তানে। কেউ দীর্ঘদিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছেন। কারও প্রাণদণ্ড হয়েছে। দীর্ঘদিন গুপ্তচরবৃত্তি করেও নির্বিঘ্নে দেশে ফিরেছেন একমাত্র অজিত ডোভাল। তিনি বর্তমান ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এরকম কিছু গুপ্তচরের তথ্য দেখে নেয়া যাক এক নজরে।

নাম ধর্ম পাল্টে পাকিস্তানে থেকে পরমাণু তথ্য পাচার করতেন মোহনলাল ভাস্কর ওরফে মহম্মদ আসলাম। চরবৃত্তির দায়ে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত বন্দি ছিলেন পাকিস্তানের জেলে। সাত বছর জেল খাটার পর হরবিংশ রাই বচ্চনের (অমিতাভ বচ্চনের বাবা) সুপারিশ এবং সিমলা চুক্তির সৌজন্যে মুক্তি পান। দেশে ফিরে তিরাশিতে লিখেছিলেন, ‘ম্যায় পাকিস্তান মে ভারত কা জাসুস থা।’

ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে ৪৮০ টাকা মাসমাইনের এজেন্ট ছিলেন কাশ্মীর সিং ওরফে মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কিন্তু ১৯৭৩ সালে পাক সেনার হাতে ধরা পড়েন। তারপর ৩৫ বছর পাক জেলে কাটানোর পর মুক্তি পান। পাকিস্তানে থাকাকালীন আগাগোড়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাশ্মীর সিং। কিন্তু ২০০৮ মানবিক কারণে সীমানা পেরিয়েই বলেছিলেন, ‘দেশের স্বার্থেই আমি চরবৃত্তি করেছি পাকিস্তানে।’

সন্ত্রাসবাদী এবং ভারতীয় গুপ্তচর চিহ্নত করে সর্বজিৎ সিংকে ১৯৯১-এ প্রাণদণ্ডের নির্দেশ দেয় পাকিস্তান। তারপর শুধুই নাগাড়ে জেলখাটা আর প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে সেই আর্জিতে সাড়া দিয়েই ২০০৮-এ সর্বজিতের প্রাণদণ্ড মুলতুবি করে পাকিস্তান। তবে বহু কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও তাকে ভারতে ফেরানো যায়নি। ২০১৩-য় লাহোরের জেলেই প্রাণঘাতী হামলায় মৃত্যু হয় সর্বজিতের।

মাত্র একুশ বছর বয়সেই ‘র’-এর নজরে পড়ে যান রবীন্দ্র কৌশিক ওরফে নবি আহমেদ শাকির। দু’বছর ‘র’-এর অধীনে ট্রেনিং শেষ করে পাড়ি দেন পাকিস্তানে। পাকিস্তানে গিয়ে মুসলিম সেজে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পাক সেনার মেজর পদে যোগ দেন। সংসার পেতে ১০৭৯ থেকে ’৮৩ পর্যন্ত ভারতে টানা তথ্য পাচার করেন রবীন্দ্র। ১৯৮৫-তে পাক প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন ‘দ্য ব্ল্যাক টাইগার’। ১৬ বছর জেল খেটে ২০০১-এ মৃত্যু হয় যক্ষ্মায়।

মুসলমান সেজে সাত বছর পাকিস্তানে আন্ডার কভার এজেন্ট ছিলেন অজিত ডোভাল। ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টার ছদ্মনাম ছিল ‘০০৭’।

দীর্ঘদিন গুপ্তচরবৃত্তি করার পর আইএসআই এজেন্ট পরিচয়ে ১৯৮৮-তে ‘অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার’-এর ঠিক আগে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরে ঢুকে অজিত ডোভাল ভিড়ে যান জঙ্গি শিবিরে। আগাগোড়া ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

বাবার ইচ্ছায় কাশ্মীরের গ্রাম থেকে উঠে আসা গুপ্তচর সেহমত খান (নাম পরিবর্তিত)। আলিয়া ভাটের অভিনয়ে সবাই পরিচিত নামটির সাথে। সেহমতের দেওয়া তথ্যে ভর করেই ১৯৭১ সালে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের উপরে পাক হামলার ছক ভেঙে দেয় দিল্লি। কিন্তু সেহমত দেশে ফেরেন অবসাদ নিয়েই।

১৯৮৯-এ সেনা তথ্য পাচারের সময়ে ভারত-পাক সীমান্তে শেখ শামিমকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল বলে দাবি ইসলামাবাদের। ১০ বছর পাকিস্তানে জেলবন্দি ছিলেন তিনি। ১৯৯৯-এ শামিমকে ফাঁসিতে ঝোলায় পাকিস্তান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-পাকিস্তান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ